“একেবারে নরক, মহিলাদের…” হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও চরম অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা! কলকাতা বিমানবন্দরের কর্মীরা বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে সরব ইমন চক্রবর্তী! সোশ্যাল মিডিয়ায় কী নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন গায়িকা?

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্পষ্ট মতামতের জন্য বরাবরই পরিচিত ইমন চক্রবর্তী। কোনও সমস্যা চোখে পড়লে তা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে পিছপা হন না তিনি। এবার কলকাতা বিমানবন্দরের পরিষেবা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গায়িকা। দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে ফেসবুকে একের পর এক অভিযোগ তোলেন ইমন। তাঁর বক্তব্য, যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বিশেষ করে মহিলাদের শৌচাগারের পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

নিজের পোস্টে ইমন লেখেন, “কলকাতা বিমানবন্দরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাটা জাস্ট একটা বিভীষিকা।” এরপরই তিনি সমস্যার মূল জায়গাটি তুলে ধরেন। গায়িকার দাবি, বিমানবন্দরের প্রায় সব লেডিস ওয়াশরুমই অত্যন্ত নোংরা এবং ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার মহিলাদের শৌচাগারগুলো। প্রায় সবকটি লেডিস টয়লেটই অত্যন্ত নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর।” শুধু নোংরা পরিবেশই নয়, সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে বলেই মত অনেকের।

ইমন আরও অভিযোগ করেন, শৌচাগার পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানালেও অনেক সময় কর্মীরা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এই অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি লেখেন, “সেখানে যে সমস্ত মহিলা কর্মীরা ডিউটিতে থাকেন, তাঁদের যদি একটু পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়, তাঁরা উল্টে মারাত্মক বিরক্ত হন! অনেক সময় তো পরিষ্কার করে দিতেই চান না…।” অর্থাৎ, যাত্রীদের সাধারণ প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত করেছেন গায়িকা। তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে হতাশা ও বিরক্তির স্পষ্ট ছবি। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নেটিজেনও।

শুধু কলকাতা বিমানবন্দর নয়, দেশের বিভিন্ন গণপরিবহন পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ট্রেন হোক বা বিমানবন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রী পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। ইমনও সেই প্রসঙ্গ টেনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “জানি না আমাদের এই দেশ ট্রেনের বা বিমানবন্দরের ওয়াশরুমগুলো কবে একটু শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে…।” তাঁর এই মন্তব্য অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিল খেয়েছে। ফলে পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘ওপারে দেখা হবে, অপেক্ষায় থাকিস!’ নিজের ভীষণ কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ অপর্ণা সেন!

ইমনের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কমেন্ট বক্সে প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়। বহু নেটনাগরিক এবং নিয়মিত যাত্রীরা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কলকাতা বিমানবন্দরে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিমানে যাতায়াত করলেও ন্যূনতম পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এত সমালোচনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আদৌ কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না। ইমনের এই পোস্টের পর বিষয়টি আরও বড় আকারে আলোচনায় উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page