এই মুহূর্তে বাংলা গানের জগতে ‘ইমন চক্রবর্তী’র (Iman Chakraborty) একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। কিন্তু গত কিছু মাসে তাঁর নাম ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সঙ্গীতের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা, বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়া মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন তিনি। এর মাঝেই ব্যক্তিগতভাবে আরও একটা কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মায়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে একটি ছবি পোস্ট করার পর সেই পোস্টে কুরুচিকর মন্তব্য তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। সেই ঘটনার পরই সামাজিক মাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
যা অনেকের কাছেই তাঁর মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে এই দূরত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুরোধেই আবার সক্রিয় হন ইমন। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কাছে মাতৃসম, তাই তাঁর অনুরোধ তিনি ফেলতে পারেননি। কিন্তু ফিরে আসার পরেও পরিস্থিতি খুব একটা সহজ হয়নি। বরং তাঁর প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি উপস্থিতি যেন নতুন করে বিশ্লেষণের মুখে পড়তে শুরু করে। আগে রাজ্যের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বা সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়া নিয়ে যে আলোচনা হতো, তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রঙ নিতে শুরু করে।
এই প্রেক্ষিতেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। সেখানে শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আমি শ্রী শমীক ভট্টাচার্যের খুব বড় ফ্যান! কয়েকদিন আগে আমি ওনার একটি সাক্ষাৎকারে দেখলাম, কি ভালো আবৃত্তি করেন! ওটা দেখার পর থেকে আমি আরও বড় ভক্ত হয়ে গেছি…কারোর সম্বন্ধে একটা অযাচিত মন্তব্য নয়, কি সুন্দর করে কথা বলেন!” প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। যেহেতু শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং ইমনের নাম কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরছিল, তাই এই মন্তব্য অনেকের চোখে প্রশ্ন তুলেছে।
এরপরেই সামাজিক মাধ্যমে নানান প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। কেউ লিখেছেন, “যেই বুঝেছেন হওয়া ঘুরে যেতে পারে অমনি পাচালি ছেড়ে আবৃত্তি!” আবার অন্য একজনের কটাক্ষ, “পিসির কবিতা কেমন লাগে এপাং ওপাং ঝপাং? জানতে পারলে খুব উপকার হত আমার।” আরেকজন বলেছেন, “এখন বলে আর কি হবে? টিকিট তো বিতরণ হয়ে গেছে, পাঁচালী পরেও টিকিট দিলো না আর এখন বিজেপি গান গেয়ে লাভ নেই।” কেউ আবার লিখেছেন, “আমারও আপনার গলায় “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে” অপূর্ব লাগে!” এমনকি ‘গিরগিটি’ বলেও আক্রমণ করা হয়েছে তাঁকে!
আরও পড়ুনঃ “উচ্চিংড়ে লাফাচ্ছে…স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই, দোষী পুলিশকর্মীর শাস্তি চাই” গাড়ি বিতর্কে তিন দফা দাবির সুরে, রাজ্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন অরিত্র দত্ত বণিক! একাংশের কটাক্ষ ‘নিজের আচরণ ঠিক করুন, আইন জানেন না’ দুই মেরুর মতামতে উত্তপ্ত সমাজ মাধ্যম!
এইসব মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, জনমতের একাংশ তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্ত, আবার কেউ কেউ সরাসরি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিতেও পিছপা হচ্ছেন না। তবে, এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও একটা বিষয় পরিষ্কার যে ইমন নিজেকে মূলত একজন শিল্পী হিসেবেই দেখতে চান। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি এবং সেই সিদ্ধান্তও নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, মানুষের হৃদয়ই তাঁর আসল জায়গা। কিন্তু বর্তমানে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত মতামতও যে কত দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে যেতে পারে, ইমনের এই অভিজ্ঞতা তারই একটা বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকল।






