এবার বাংলায়ও ‘ধুরন্ধর’? জেহাদি ‘মেজর ইকবাল’ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় হচ্ছে ‘অজিত ডোভাল’! সঙ্গে থাকছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও! মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন কে? কোন ভূমিকায় কাকে মানাচ্ছে বেশি, আপনাদের কী মত?

দক্ষিণী সিনেমার হিট ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধুরন্ধর’ এখন বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। মাত্র ৯ দিনে ১১০০ কোটির ব্যবসা করে বক্স অফিসে রেকর্ড গড়েছে এই সিনেমা। এই সাফল্যের প্রভাবে বাংলার সিনেমাপ্রেমীরাও কৌতূহলে আছেন। ‘ক্লিক’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এ মুহূর্তে দর্শকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। দর্শকরা ভাবছেন, বাংলায় যদি এমন একটি ধুরন্ধর ফিল্ম তৈরি হত, তবে সেই চরিত্রগুলোকে কোন টলিউড তারকা কল্পনা করতে পারতেন। এই চিন্তা থেকেই ‘ক্লিক’ অভিনবভাবে এআই কৌশলের মাধ্যমে বাংলার অভিনেতাদের কাস্টিং তুলে ধরেছে।

এআই কৌশলে তৈরি এই কাস্টিংয়ে দেখা যাচ্ছে, অজিত ডোভালের চরিত্রে যদি মাধবন অভিনয় করতেন, বাংলায় তার সমতুল্য হতেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া, রহমান ডাকাইতের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রেফারেন্স হিসেবে অক্ষয় খান্নার কাজের কথা বলা হয়েছে, যা টোটা রায়চৌধুরী বাংলায় খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। করাচির ধূর্ত নেতা ‘জামিল জামিলি’র চরিত্রের জন্য ক্লিক খরাজ মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছে। এ ধরনের অভিনয় দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের মিলন দর্শকদের মন জয় করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মেজর ইকবালের চরিত্রে অর্জুন রামপালকে কল্পনা করা হয়েছে, যিনি আইএসআই এজেন্টের ভূমিকায় দর্শকদের মনে তীব্র ছাপ রাখতে সক্ষম। একইভাবে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের লুকও মন্দ লাগছে না, যা নতুনত্বের সঙ্গে দর্শকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এছাড়া করাচির প্রয়াত এসপি চৌধুরী আসলাম খানের চরিত্রে সঞ্জয় দত্তকে কল্পনা করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান থেকে কিছু আপত্তি উঠেছিল, দর্শকরা এই চরিত্রের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

নেটপাড়ায় দর্শকের মন্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি এই কাস্টিং বেশ আলোচ্য হয়েছে। পাক জেহাদি ও খলনায়ক চরিত্রের জন্য সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, আর উজির বালোচের চরিত্রে প্রস্তাবিত হয়েছেন দানিশ। তবে কিছু অংশের দর্শক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য কাস্টিংটি মেনে নিতে পারেননি। হামজা বা জসকিরত সিং-এর চরিত্রের জন্য ক্লিক সৌরভ দাসকে প্রস্তাব দিয়েছে, তবে দর্শকের মধ্যে রণবীর সিংয়ের ভূমিকায় সুপারস্টার জীতকে দেখতে চাওয়ারও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুনঃ “প্রতিটা মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও জাতীয় পুরস্কার পেল না!” রাজ্যস্তরে মুখ্যমন্ত্রী হাত থেকে ‘মহানায়ক’ সম্মান পেলেও, গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তীর মনে আক্ষেপ রয়ে গেছে আজও!

সবমিলিয়ে, ‘বাংলার ধুরন্ধর’ কাস্টিং নিয়ে দর্শকরা উৎসাহিত। যদিও এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি, তবুও ফ্যানরা মনে করছেন, অন্তত দুধের সাধ ঘোলে মিলেছে। নেটপাড়ায় এই কন্টেন্টকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বক্স অফিসে এ ধরনের সাড়া এবং জনপ্রিয়তার প্রভাব দেখে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে টলিউডেও এমন অনুপ্রেরণামূলক কৌশল প্রয়োগ হতে পারে।

You cannot copy content of this page