বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরেই টলিউড এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর বহু জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। কেউ সাংসদ, কেউ বিধায়ক, আবার কেউ বিভিন্ন সরকারি কমিটি বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিজেপির উত্থানের সঙ্গেও একাধিক তারকা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। ফলে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, শিল্পীদের মূল পরিচয় কি এখন অভিনয়, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা? এই বিতর্কের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রবীণ অভিনেত্রী লাবনী সরকার।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ লাবনী সরকার। অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি ও ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে রাজনীতির ময়দানে তাঁকে কোনওদিন সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে জড়াননি বলেই পরিচিত মহলে তাঁর ভাবমূর্তি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বর্তমান টলিউডের একাংশ এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় শিল্পীদের নিয়ে নিজের ক্ষোভ উজাড় করে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদন মহলে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে লাবনী সরকার বলেন, “অভিনয় জগতের একটা বড় অংশ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়কে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যেন তারাই সবকিছু। আমি কি জানি না কার কী করার যোগ্যতা আছে? আমি তো জানি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কী করার যোগ্যতা আছে আর উনি কী করেছেন।” অভিনেত্রীর দাবি, আজকের দিনে কিছু শিল্পী রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের অবস্থান এমনভাবে তৈরি করেছেন যে সাধারণ শিল্পীদের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, শিল্পীর পরিচয় তাঁর কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে নয়।
এরপরই আরও কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন লাবনী সরকার। তিনি বলেন, “আমি এইসব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বলে বিশ্বাসই করি না। আমি ওঁদের দিকে তাকাতেও ঘৃণা বোধ করি। এমনকি ওঁদের নাম উচ্চারণ করতেও ঘৃণা বোধ করি।” তাঁর অভিযোগ, একসময় যে ইন্ডাস্ট্রিকে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখত, আজ সেই সম্মান অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “আজকে শুধুমাত্র এই ধরনের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীর জন্যই মানুষ পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে আগের মতো সম্মান করে না। যে জায়গাটাকে একসময় মানুষ মাথায় তুলে রাখত, আজ সেই জায়গাকেই অনেক সময় পায়ের তলায় নিয়ে চলে আসে।”
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরাটাই যেন অভিশা’প হয়ে উঠেছিল! বিতর্ক, কটাক্ষ আর অভিযোগের ঝড়ে হারিয়ে গেলেন শ্বেতা মিশ্র! রাহুলের পরিণতিতে পর্দা থেকে বাস্তবের ভিলেন বানিয়ে ছেড়েছিল নেটপাড়া! আবার কি নায়িকা রূপে ফিরবেন ছোটপর্দায়? অভিনেত্রীর প্রত্যাবর্তন নিয়ে কি উৎসুক আপনারা?
শুধু রাজনৈতিক যোগ নয়, কিছু শিল্পীর বিপুল সম্পত্তি নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন লাবনী সরকার। তিনি বলেন, “৫ কোটি, ১০ কোটি, ১৫ কোটি টাকার বাড়ি, এখানে এত প্রপার্টি, ওখানে এত প্রপার্টি, চারটে বাগানবাড়ি, অজস্র সোনার গয়না, এগুলো আমাদের মতো শিল্পীদের চিন্তারও বাইরে। শুধুমাত্র অভিনয় করে এগুলো কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন তো উঠবেই।” এরপর আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে অভিনেত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষের টাকা ছিনতাই করে আমি বড়লোক হতে পারি, তার থেকে ঘৃণ্য প্রফেশন আর কিছু হতে পারে না।” যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর এই মন্তব্য যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একাংশ শিল্পীদের উদ্দেশেই, তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে। লাবনী সরকারের এই বিস্ফোরক বক্তব্য ঘিরে এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।






