টলিউডে যেন শোকের ছায়া কাটতেই চাইছে না। একের পর এক দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যুতে সবাই যখন এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, ঠিক তখনই এল আরও একটি মর্মান্তিক খবর। অল্প বয়সেই জীবন থেমে গেল উঠতি অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়ের। জানা গেছে, মাত্র তিরিশের কোঠায় পৌঁছনোর আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই আকস্মিক ঘটনায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে টেলিপাড়ায়। সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছে বিষয়টি এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। হঠাৎ এমন ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। প্রণবের এই মৃত্যু যেন আরও একবার অনিশ্চিত জীবনের ছবি তুলে ধরল।
ঘটনাটি ঘটে ওড়িশায় শুটিং চলাকালীন। কাজের সূত্রে সেখানে গিয়েছিলেন প্রণব। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি, এবং দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি খুব দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই তাঁর অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। পথে থাকতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে টলিউড মহলে। এত অল্প সময়ে সব শেষ হয়ে যাবে, তা কেউ ভাবতেই পারেননি।
ইন্ডাস্ট্রির সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ পাচ্ছিলেন না প্রণব। এই বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে খুব চাপে ফেলেছিল। নিয়মিত কাজ না থাকায় রোজগারের সমস্যাও তৈরি হয়েছিল। পরিবার চালানোর দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই ছিল বলে জানা যায়। সেই চাপ থেকেই তিনি গভীর উদ্বেগে ভুগছিলেন। সহকর্মীদের মতে, এই দুশ্চিন্তা থেকেই হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাক হয় তাঁর। আর সেই অবস্থার পরেই শরীর ভেঙে পড়ে। মানসিক চাপ কীভাবে শারীরিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার উদাহরণ।
প্রণবের সহকর্মী অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহ তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রণব অনেকদিন ধরেই কাজের খোঁজ করছিলেন। সুযোগের অভাবে তিনি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অলকানন্দা জানান, নিজের সাধ্য মতো তিনি প্রণবকে কাজ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিছু প্রচারমূলক শুটিংয়ে তাঁকে ডাকতেন এবং পারিশ্রমিকও দিতেন। কিন্তু নিয়মিত কাজ না থাকায় সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিই প্রণবকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। এমন একটি পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবেননি।
আরও পড়ুনঃ টেলিপাড়ায় ফের শো’কের ঢেউ! রাহুলের মৃ’ত্যু শো’ক কাটতে না কাটতেই টলিউডের উঠতি অভিনেতার অকাল মৃত্যু! মাত্র ৩৩ বছর বয়সে, শুটিং করতে গিয়েই সব শেষ!
ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক দায়িত্ব ছিল প্রণবের ওপর। জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর বয়সও খুব বেশি নয়। এছাড়া পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা এবং ভাই। পরিবারের মূল ভরসা ছিলেন প্রণবই। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার একেবারে ভেঙে পড়েছে। সহকর্মীরাও শোকাহত এবং হতবাক। টলিউডে আবারও আলোচনায় এসেছে শিল্পীদের অনিশ্চিত কাজের পরিবেশ ও মানসিক চাপের বিষয়টি। প্রণবের এই মৃত্যু যেন সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিল।






