“সহজ যেন জানতে পারে ওর বাবা কেন চলে গেল?” রহস্যে ঘেরা রাহুলের মৃ’ত্যু, অকালে পিতৃবিয়োগের য’ন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না! মানুষটাকে ফেরানো সম্ভব নয়, তবে সন্তানের জন্য ন্যায় বিচারের দাবিতে সরব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়!

টলিপাড়ায় শোকের ছায়া এখনও কাটেনি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায়। শুক্রবার রাতে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এই ঘটনাকে ঘিরে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখ, যেমন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, দিগন্ত বাগচী, পায়েল দে সহ আরও অনেকে। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে প্রসেনজিৎ স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আসা জরুরি।

তিনি বলেন, যিনি চলে গিয়েছেন তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু তাঁর ছেলে যেন একদিন জানতে পারে ঠিক কী কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হল। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার বিকেলে, যখন তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। সেই সময় সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, অনেকক্ষণ জলে থাকার পর তাঁকে তোলা হয়, আবার কেউ দাবি করছেন, এক সহ অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এই ভিন্ন ভিন্ন বয়ান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ইউনিটের বক্তব্যের মিল না থাকায় প্রশ্ন উঠছে। ফলে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথম থেকেই ইউনিটের সদস্যদের কথায় অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রযোজনা সংস্থাকে ইতিমধ্যেই ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই জবাবে সন্তুষ্ট নয় সংগঠনটি। তাই এই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুক্রবারের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শনিবার রিজেন্ট পার্ক থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হবে। এই সিদ্ধান্তে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। তারা চান, ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসুক। রাহুলের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে তাঁর অল্পবয়সী ছেলে সহজকে নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মাত্র তেরো বছর বয়সে বাবাকে হারানোর কষ্ট কতটা গভীর, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। গত কয়েকদিন ধরে এই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে, কীভাবে এই শোক সামলাবে সে। অন্যদিকে, কিছু মহল থেকে এই ঘটনার দায় রাহুলের উপর চাপানোর চেষ্টাও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ “ভালো চরিত্রে সুযোগ দেবে বলে ‘ওইসব’ অফার করেছিল আমায়” সম্মান বাঁচাতে ফিরিয়েছিলেন কাস্টিং কাউচের প্রস্তাব! অভিনয় ছেড়ে উদ্যোক্তা, পঞ্চমবার বিয়ে করেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে মুখ খুললেন সুস্মিতা রায়!

সেই প্রেক্ষিতেই প্রসেনজিতের মন্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই কারও। এর আগেও এই ঘটনা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসেনজিতের বাড়িতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার, প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল এবং দেব। এই বৈঠকেও মূল দাবি ছিল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। এরপর শুক্রবার আবারও বৈঠক ডেকে আইনি পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রির একাধিক সদস্য এখন একজোট হয়ে সত্য জানার দাবি তুলেছেন। সকলের একটাই প্রশ্ন, সেই দিন সমুদ্রে আসলে কী ঘটেছিল।

You cannot copy content of this page