“একজন শিল্পী চলে গেল, তারপর FIR করাটা কুমিরের চোখে কা’ন্না ছাড়া আর কিছু নয়” “ম’রে গেছে তাই সবাই প্রতিবাদ করছে, বেঁচে থাকতে পিছনে কলকাঠি নেড়েছে” রাহুল অরুণোদয়ের রহস্যমৃ’ত্যুতে উত্তাল টলিউড, নিজের ছবিতে মালা পরিয়ে আর্টিস্টস ফোরামের বিরুদ্ধে একাকী লড়া’ইয়ে অভিনেতা!  

টলিউডের বাতাসে এখন এক অদ্ভুত অস্বস্তি। একদিকে শোক, অন্যদিকে ক্ষোভ, এই দুই অনুভূতির টানাপোড়েনে যেন দিশেহারা গোটা ইন্ডাস্ট্রি। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বারবার উঠে আসছে শিল্পীদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ আর পারস্পরিক সম্পর্কের প্রশ্ন। কিন্তু এই আবহে এমন এক প্রতিবাদের ছবি সামনে এল, যা শুধু চমকে দেয়নি, বরং অনেক না-বলা কথাকেও সামনে এনে দিয়েছে। এই আবহের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অস্বাভাবিক মৃত্যু। তাঁর মৃত্যুর তদন্ত এবং বিচার চেয়ে যখন শিল্পী মহলের একাংশ রাস্তায় নেমেছে, তখনই সামনে আসে আরেকটি ভিন্ন সুর।

সেই সুর তুললেন অভিনেতা জিতু কামাল। শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সামনে প্রতিবাদ মিছিলে তিনি এমন একটি পদক্ষেপ নেন, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নিজের সাদাকালো ছবিতে মালা পরিয়ে রাহুলের ছবির পাশে রেখে প্রতিবাদে শামিল হন তিনি। এই অভিনব প্রতিবাদের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা। জিতুর কথায়, “মরে যাওয়ার পর সবাই প্রতিবাদ করছে। আমারও এমন দশা হতে পারত।” তাঁর অভিযোগ সরাসরি আর্টিস্টস ফোরামের বিরুদ্ধে।

তিনি দাবি করেন, শিল্পীরা যখন অসুস্থ হন বা সমস্যায় পড়েন, তখন ফোরাম তাঁদের পাশে দাঁড়ায় না। কিন্তু মৃত্যুর পর শোকপ্রকাশ বা মিছিল, সেখানে উপস্থিতি চোখে পড়ে। এই বক্তব্যে শুধু ক্ষোভ নয়, বরং একরকম হতাশা ফুটে ওঠে, যা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তব চিত্র নিয়েই প্রশ্ন তোলে। এই প্রসঙ্গে জিতু নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। কিছুদিন আগে তালসারিতে শুটিং চলাকালীন একটি প্রযোজনা সংস্থার অপেশাদার আচরণের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

তাঁর দাবি, সেই সময় বারবার জানানো সত্ত্বেও আর্টিস্টস ফোরাম তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি, এমনকি খোঁজও নেয়নি। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, জিতু আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষরাই অনেক সময় “কলকাঠি নেড়ে” পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করেন, জীবিত অবস্থায় শিল্পীর গুরুত্ব কম, কিন্তু মৃত্যুর পর সহানুভূতির ঢেউ দেখা যায়। অন্যদিকে, রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে তদন্তের দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। শনিবার দুপুরে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন তুলেছেন জিতু। তাঁর কথায়, “আজ একজন শিল্পী চলে গেল, তারপর FIR করা এটা কুমিরের চোখে কান্না ছাড়া আর কিছু নয়।” পাশাপাশি তিনি ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথাও তুলে ধরেন কারও মতে শুটিং বন্ধ, আবার কেউ বলছেন কাজ চলছে। এই বিভ্রান্তিই প্রমাণ করে, নিজেদের ঘরই ঠিকঠাক নেই বলে দাবি তাঁর। শেষ পর্যন্ত জিতুর বক্তব্যে উঠে আসে একরকম একাকী লড়াইয়ের ছবি।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াইয়ে কে পাশে থাকবে তা তিনি জানেন না, তবে তিনি থামবেন না। নিজের কেরিয়ারের শুরুতে একা লড়াই করে জায়গা করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর আছে বলেই দাবি। এমনকি এই প্রতিবাদের জন্য যদি তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়, তবুও তিনি পিছিয়ে আসবেন না। তাঁর কথায়, “আমি লড়াই করতে করতে বেরিয়ে যাব, কিন্তু থামব না।” এই বক্তব্য শুধু একজন অভিনেতার ক্ষোভ নয় এ যেন গোটা বিনোদন জগতের অন্দরমহলের এক কঠিন বাস্তব, যা সামনে আসতেই টলিউডে নতুন করে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনার ঝড়।

You cannot copy content of this page