“চন্দন সেনের সঙ্গে প্রেম করেছি বলে বাড়িতে খেতে দিত না” পরিবার থেকে কেন এত বিরোধিতা ছিল এই সম্পর্ক নিয়ে? অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে, লজেন্স-বিস্কুট বিক্রি করে কীভাবে চলেছিল তাঁর জীবনযুদ্ধ? তিনবার বিয়ের পরও কেন আজ সম্পূর্ণ একা অভিনেত্রী সুদীপা বসু?

বিনোদন জগতের ঝলমলে আলো আমাদের চোখে যে আনন্দ আর সাফল্যের ছবি তুলে ধরে, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা গল্প। যাঁরা পর্দায় দর্শকদের হাসান, কাঁদান বা মুগ্ধ করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন কিন্তু সবসময় এতটা রঙিন নয়। বরং সেখানে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ, মানসিক চাপ আর সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেক সময় সেই লড়াইগুলো সামনে আসে না, থেকে যায় অজানাই। তবে যখন সেই গল্প প্রকাশ্যে আসে, তখন তা নতুন করে ভাবতে শেখায় তারকারাও আসলে আমাদের মতোই মানুষ। টলিউডের অত্যন্ত পরিচিত এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী সুদীপা বসু বরাবরই তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন।

ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। ‘এক আকাশের নিচে’, ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘দুর্গা’ কিংবা ‘আবার ব্যোমকেশ’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় উঠে এসেছে তাঁর জীবনের এমন কিছু অধ্যায়, যা অনেকের কাছেই ছিল সম্পূর্ণ অজানা। ব্যক্তিগত জীবনে সুদীপার সম্পর্কের গল্পও কম চড়াই-উতরাইয়ে ভরা নয়। জীবনে তিনবার বিয়ে করেছেন তিনি। প্রথমবার নাট্যকার শৈবাল বসু-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

দ্বিতীয়বার প্রেম করে বিয়ে করেন অভিনেতা চন্দন সেন-কে, যদিও সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তৃতীয়বার ‘রবি’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়। সুদীপা নিজেই জানিয়েছেন, দাম্পত্যের চেয়ে বন্ধুত্ব তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তিনটি সম্পর্ক এসেও তাঁর জীবনে স্থায়ী হয়ে উঠতে পারেনি। অভিনেত্রীর লড়াই শুরু হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে মা ও তিন বোনকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সংসার চালানোর জন্য মায়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি ঘুরে লজেন্স-বিস্কুট বিক্রি পর্যন্ত করতে হয়েছে।

দারিদ্র্যের মধ্যেও থিয়েটার আর নাচের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল জীবনের একমাত্র আশ্রয়। ২০০৬ সালে মাকে হারানোর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। তবুও তিনি হার মানেননি। পরিচালক অঞ্জন দত্ত-র হাত ধরে অভিনয়ে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন ইন্ডাস্ট্রিতে। এমনকি তৃতীয় বিয়ের সময় ভালোবাসার টানে আটটি মেগা সিরিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে হায়দ্রাবাদে চলে যাওয়ার মতো বড় সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তবে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল চন্দন সেন-এর সঙ্গে সম্পর্কের সময়।

আরও পড়ুনঃ “আর দেখা হবে না আমাদের…” অভিনেত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই রাহুলের মৃ’ত্যু! শুটিং ফ্লোরে বলা কোন কথায় ছিল অশ’নি সংকেত? প্রযোজনা সংস্থাকে নিয়ে মুখ খুলে কী জানালেন সহ অভিনেত্রী সোমাশ্রী চাকি?

সেই সময়ে পারিবারিকভাবে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর মা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। এমনকি সেই সময় তাঁকে বাড়িতে খাবার পর্যন্ত দেওয়া হত না। নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হয়েছে, নিজের খাবার নিজেকেই জোগাড় করতে হয়েছে। তবুও ভালোবাসার টানে তিনি পিছিয়ে যাননি। কিন্তু শেষমেশ সেই সম্পর্কও টেকেনি। এখন সমস্ত অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিকে সঙ্গী করে একাই নিজের মতো করে জীবন কাটাচ্ছেন সুদীপা, নিজের শর্তে, নিজের নিয়মে।

You cannot copy content of this page