গতকাল, শনিবার বিকেলে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা গেল। স্টুডিয়োর বিকেল হতেই এসে হাজির হলেন টলিউডের প্রায় সব জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী। এসেছিলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, পরিচালক অরিন্দম শীল, সাংসদ-অভিনেতা জুন মালিয়া, বাদশা মৈত্র, পাপিয়া অধিকারী এবং আরও অনেকেই। কিন্তু এ দিনটি ছিল বিশেষ, কারণ এটি ছিল সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার দিন। শোভাযাত্রায় যোগ দিলেন তারা, আর তাদের সঙ্গে ছিলেন বহু টলিউডের পরিচিত মুখ।
শনিবারের এই সমাবেশে রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়। রাহুলের অকাল মৃত্যুর পর থেকে যেসব প্রশ্ন বারবার উঠেছে, সেই প্রশ্নগুলির উত্তরে একে একে উত্তর দিলেন টলিউডের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা। সংবাদ মাধ্যমের কাছে বাদশা মৈত্রকে প্রশ্ন করা হয়, যেভাবে রাহুলের দেহ লাল পতাকায় মুড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তার মন্তব্য কী? বাদশা বলেন, “আমি বা রাহুল কেউ কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবে আমাদের রাজনীতি নিয়ে আলাপ ছিল, সেটা প্রকাশ্যে জানিয়ে আমরা মঞ্চে দাঁড়িয়েছি। তাই আমাদের বন্ধু-বান্ধবরা যদি সেই লাল পতাকা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে চায়, তবে তা সম্মানজনক।”
এ দিন আরও এক প্রশ্ন উঠেছিল, রাহুলের শোক প্রকাশের সময় এমন উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না? বাদশা মৈত্র বলেন, “শোকপ্রকাশের কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই। কেউ চুপ করে শোক পালন করেন, কেউ আবার কাঁদেন। রাহুলের রাজনৈতিক বিশ্বাস ছিল, এবং সেই অনুযায়ী তার বন্ধু-বান্ধবেরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। এতে কোনো অন্যায় নেই।” তিনি আরও বলেন, “যিনি রাজনীতি নিয়ে সক্রিয়, তার জন্য এই ধরনের শোকপ্রকাশ একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।”
আরও পড়ুনঃ রাতেই তালসারি থানায় প্রিয়াঙ্কা সরকারের এফআইআর! রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যু নিয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় সহ, আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের? আইনি পদক্ষেপে এক সপ্তাহ দেরী কেন, জানালেন অভিনেত্রী?
একটু পরে, বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি রাহুলের পরিবারকে ন্যায় পাইয়ে দিতে পারবেন? পাপিয়া বলেন, “আমি অভিনেত্রী, এবং এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ। আমি চাই, অভিনেতাদের যেন সম্মানের সাথে দেখা হয়। তারা যেন কুকুর-বেড়ালের মতো না হয়।” তিনি আরও বলেন, “রাহুলের মতো অভিনেতা যদি নিরাপত্তাহীনতার কারণে মারা যান, তাহলে এর পরিণতি কারোর জন্যও ভালো হবে না। তারও আগে, সকল অভিনেতাকে নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পাপিয়া অধিকারী আরও বলেন, “এমনকি অভিযোগ জানাতে এক সপ্তাহ লেগে গিয়েছে, কারণ এই প্রযোজনা সংস্থা এবং ফেডারেশন অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা সহজ নয়। তবে যদি আবার আমাদের কারও ক্ষতি হয়, আমরা আর চুপ করে বসে থাকব না।” তিনি ফেডারেশনকে অভিযুক্ত করে বলেন, “ফেডারেশন নিজেদের দায়মুক্তি করতে পারে না, তাদের এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।”
এই শোক সমাবেশটি ছিল টলিউডের পক্ষ থেকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর জন্য বিচার চাওয়ার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। সেলিব্রিটিরা নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে, তাদের সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শোক এবং ক্ষোভের মধ্যে, তারা স্পষ্ট করেছেন যে, টলিউডে এমন ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না, এবং শিল্পীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।






