বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি(Rahul Arunoday Banerjee) এর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিপাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়, থিয়েটার ও লেখালেখির জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করা এই অভিনেতা মৃত্যুর আগেই একটি পডকাস্টে এসে নিজের জীবনের নানা অজানা দিক খোলাখুলি ভাবে তুলে ধরেছিলেন। সেই আড্ডায় তিনি ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম, আসক্তি থেকে ফিরে আসার গল্পের পাশাপাশি বিশেষভাবে বলেছিলেন তার সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং প্রিয় মানুষের কথা, যা আজ তার না থাকার মাঝে আরও বেশি আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
এই আড্ডায় বিশেষভাবে উঠে আসে তার বৈবাহিক সম্পর্ক এবং অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তার গভীর আবেগের কথা। রাহুল অকপটে স্বীকার করেন, জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও প্রিয়াঙ্কার প্রতি তার ভালোবাসা ও সম্মান একটুও কমেনি। তিনি বলেন, এমন সময়ও গেছে যখন তাদের সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি ছিল, তবুও প্রিয়াঙ্কা কখনও তাকে ছোট করেননি বা অসম্মান করেননি। বরং কঠিন সময়েও তিনি তাকে মর্যাদা দিয়েছেন, যা রাহুলের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
রাহুল আরও বলেন, আজও প্রিয়াঙ্কাকে দেখলে তিনি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন। তার ভাষায়, “আজও প্রিয়াঙ্কাকে দেখলে আমি হা হয়ে তাকিয়ে থাকি।” এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট, সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বা সমস্যার পরও তার অনুভূতি কতটা গভীর। তিনি জানান, প্রিয়াঙ্কার প্রতি তার ভালোবাসা শুধু আবেগের নয়, গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকেও আসে।
একইসঙ্গে নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করতে পিছপা হননি রাহুল। তিনি জানান, জীবনের এক সময়ে তিনি ভুল করেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেই ভুলের প্রভাব পড়েছিল। তবে তিনি এটাও বলেন যে প্রিয়াঙ্কা তাকে ক্ষমা করেছেন, এবং সেই ক্ষমা পাওয়াটা তার কাছে অত্যন্ত বড় বিষয়। তার মতে, কেউ যদি আবার ফিরে আসতে চায়, তাহলে সেই সম্পর্কে এখনও কিছু না কিছু মূল্যবোধ ও ভালোবাসা থেকে যায়, না হলে কেউ ফিরে আসতে চায় না।
আরও পড়ুনঃ “উনি এখন স্ক্রিপ্ট গোছাতে ব্যস্ত, কখন কী মিথ্যে বলবেন সেটাই সাজাচ্ছেন” “পোষ্য মা’রা গেলেও মানুষ কষ্ট পায়, সেখানে একজন শিল্পী মৃ’ত্যুতে এমন নির্লিপ্ততা!” রাহুল অরুণোদয়ের অকাল প্রয়াণে সরাসরি লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে, চাঁচাছোলা ভাষায় আ’ক্রমণ কাঞ্চনা মৈত্রের!
অভিনেতা আরও জানিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কার দিক থেকেও ভালোবাসা ও সম্মান ছিল বলেই হয়তো তিনি আবার তার কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, না হলে “এরকম একটা ছাগলের কাছে” কেউ ফিরতে চাইবে না বলেই নিজের দিকে আঙুল তুলেছিলেন অভিনেতা। একইসঙ্গে তিনি এ কথাও উল্লেখ করেন যে, তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে যতই সমস্যা বা দূরত্ব থাকুক না কেন, তাদের ছেলে সহজের সামনে প্রিয়াঙ্কা কখনও তাকে খারাপ মানুষ বা ভিলেন হিসেবে তুলে ধরেননি। অর্থাৎ সম্পর্কের টানাপোড়েন সম্পূর্ণটাই তারা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, সন্তানের উপর তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেননি যা রাহুলের কাছে প্রিয়াঙ্কার প্রতি সম্মান আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
রাহুলের কথায় স্পষ্ট ছিল, তিনি জীবনের প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। অতীতের ভুল, আসক্তি বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। আর সেই পথচলায় প্রিয়াঙ্কার ভূমিকা তিনি অস্বীকার করেন না। সম্পর্কের জটিলতা, ভাঙাগড়া, দূরত্ব সবকিছুর মধ্যেও যে ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে, তারই এক বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনি নিজের জীবনের এই অধ্যায় তুলে ধরেছেন। এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি দর্শকদের কাছেও বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে উঠেছে।






