‘শুটিংয়ে বেরোলে বাড়ি ফিরব কিনা নিশ্চয়তা নেই…যতক্ষণ না পদক্ষেপ করছেন আমাদের কর্মবিরতি চলবে!’ রাহুলের মৃ’ত্যুর এক সপ্তাহ পার, অনির্দিষ্টকালের জন্য শুটিং বন্ধ টলিউডে! ধর্মঘটের ডাক দিলেন শিল্পীরা?

রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) অকাল মৃত্যুর পর টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া পড়েছে। মাত্র সাত দিন পর, তার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে, এবং তার একাধিক সহকর্মী, শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানরা এ ঘটনায় সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি। যদিও ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাহুলের মৃত্যুর পর সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং প্রতিবাদ থাকতে পারে।

গতকাল টলিউডের কিছু বিশিষ্ট সদস্য যেমন, প্রিয়াঙ্কা সরকার, প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। তারা রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে এক যৌথ প্রতিবাদ মিছিলও করেছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের গাফিলতি থাকলে শুটিং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে, কেন এমন ঘটনার পর সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, শুটিংয়ে যাবার পর নিজের জীবন নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা কি ছিল? এদিকে, আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রায় ৪,০০০ সদস্য এবং ফেডারেশনের ৭,০০০ টেকনিশিয়ানসহ সকল কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তারা আজ থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। শান্তিলাল মুখার্জি জানিয়েছেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা বিষয়টি এখন একাধিক শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “বাড়ি চলো…আমাদের অনেক লড়াই এখনও বাকি” গুরুতর অসুস্থ দীপঙ্কর রায়, হাসপাতালে ভর্তি অহনা দত্তের স্বামী! ছবি দেখে চিন্তায় ভক্তরা! কী হয়েছে তাঁর, জানালেন অভিনেত্রী?

নিরাপদ শুটিংয়ের ব্যবস্থা না হলে, কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হবে, যতক্ষণ না সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়, ততক্ষণ চলবে এই প্রতিবাদ। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এই বিষয়ে বলেছেন, “রাহুল আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে একত্রিত করে গিয়েছে, তার মৃত্যু আমাদের এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের সবার সুরক্ষা একেবারে জরুরি, কারণ শুটিংয়ের সময় আমরা কেউ জানি না, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কেমন।”

শিল্পী এবং পরিচালক, প্রযোজক, টেকনিশিয়ানসহ সবাই একটি সাধারণ নিয়ম চান যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। তাদের দাবি, একযোগে কাজ করতে গেলে সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া, প্রযোজক অরবিন্দ জানিয়েছেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা পূর্ণ দায়বদ্ধতা গ্রহণ করছেন। “শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব,” তিনি বলেন। এই বিষয়ে শুটিংয়ের জন্য কিছু নতুন নিয়মাবলীও তৈরি হবে, যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

আশা করা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে, এবং ইন্ডাস্ট্রি একটি নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবে। রাহুলের মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি গভীর শোকের মুহূর্ত হলেও, তার মৃত্যুর পর যে সুরক্ষা নিয়ে এই সরব আন্দোলন শুরু হয়েছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, এবং টেকনিশিয়ানের একযোগ প্রচেষ্টায় হয়তো এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে যেখানে সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

You cannot copy content of this page