“অনেকে বলে মা আমার কাছে থাকে, আমি বলি আমিই মায়ের কাছে থাকি” মৃ’ত্যুর কয়েকদিন আগেই আবেগঘন স্বীকারোক্তি রাহুল অরুণোদয়ের! সেই ছেলের অকাল প্রয়াণে মায়ের জীবন নিঃশব্দ শূন্যতায়, চোখে শুধু হারানোর যন্ত্র’ণা! কেমন ছিল তাঁদের সম্পর্ক? ছেলেকে নিয়ে কোন স্মৃতি ভাগ করলেন মা?

পর্দায় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমা দিয়ে যিনি লক্ষ মানুষের মন জয় করেছিলেন, সেই চিরসবুজ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার বিনোদন জগতে। তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়া এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউ। বিজয়গড়ের সেই পুরনো বাড়ি, যেখানে তাঁর শৈশব, সংগ্রাম আর তারকা হয়ে ওঠার গল্প জড়িয়ে আছে, আজ সেখানে শুধু নীরবতা আর হাহাকার।

এই বাড়িতেই নিজের মায়ের সঙ্গে থাকতেন রাহুল। তাঁর মৃত্যু যেন সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে নেমে এসেছে অভিনেতার মায়ের জীবনে। খবর অনুযায়ী, ছেলের চলে যাওয়ার পর থেকে বারবার তাঁকেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। কখনও ডাকছেন, কখনও মনে করছেন এই বুঝি দরজা খুলে ছেলে ঢুকবে। এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে, তাঁকে বিছানা থেকেও ওঠানো যাচ্ছে না বলেই জানা গেছে। নিজের ছেলেকে হারানোর এই যন্ত্রণা যে কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই জনপ্রিয় শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এ মায়ের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন রাহুল। সেই মঞ্চেই তিনি বলেছিলেন, “অনেকে বলে মা আমার কাছে থাকে, আমি বলি আমি মায়ের কাছে থাকি।” এই একটি বাক্যই যেন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে। সেখানে উপস্থিত সবাই বুঝতে পেরেছিলেন, মায়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কতটা নিখাদ আর আন্তরিক ছিল।

রাহুলের মা-ও সেদিন জানান, ছেলে বাড়িতে থাকলেই যেন বাড়িটা প্রাণ ফিরে পেত। শুটিং আর লেখালেখির ফাঁকে বাড়িতে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন তিনি। হাসি-ঠাট্টা, গল্প, আর নানা ধরনের খাবার বানানোর মধ্যেই কাটত তাঁদের দিন। রাহুল ছিলেন ভীষণ খাদ্যরসিক, নতুন নতুন রান্না করতে ভালোবাসতেন এবং মাকেও খাওয়াতেন আনন্দ করে। সেই হাসিখুশি ছেলেটাই আজ নেই এই বাস্তবতাই যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

আরও পড়ুনঃ তাপস পালের বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও কথা শোনেননি তরুণ মজুমদার! রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুতে, টলিউডে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন! জানেন কি, ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে অভিনেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করেছিলেন পরিচালক?

বর্তমানে টলিউডের একাংশ তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিবাদ জানালেও, ঠিক কীভাবে সেই দুর্ঘটনা ঘটল বা আসল কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রযোজনা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কারও তরফ থেকেও সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কিন্তু এই সব কিছুর বাইরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে একজন মায়ের এই অসীম কষ্ট কে বুঝবে? বাইরে থেকে হয়তো আন্দাজ করা যায়, কিন্তু একমাত্র ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর, তা অনুভব করা সম্ভব নয়।

You cannot copy content of this page