তাপস পালের বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও কথা শোনেননি তরুণ মজুমদার! রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুতে, টলিউডে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন! জানেন কি, ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে অভিনেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করেছিলেন পরিচালক?

রাহুল অরুণোদয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর টলিউডে আবার উঠে এসেছে শিল্পীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। প্রযোজনা সংস্থা এবং পরিচালকরা এখন সকলের আগে শিল্পীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এই বিষয়টি সামনে রেখেছেন। কিন্তু কি সত্যিই আগে কখনও টলিউডে শিল্পীদের সুরক্ষার দিকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হতো না? ইতিহাস দেখায়, এমন ঘটনা রয়েছে যেখানে পরিচালকরা অভিনেতাদের নিরাপত্তার দিকে সতর্ক থেকেছেন। সম্প্রতি সৌভিক সিকদার নামের একজন টলিউডের প্রাক্তন কর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১২ সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলাকালীন তাপস পালের সঙ্গে পরিচালক তরুণ মজুমদার কীভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ২০১২ সালের শীতের এক সকালে, জয়ল্যান্ড বাগানবাড়িতে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলছিল। এই বড় বাগানবাড়িতে অনেক শট নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় একটি বিশেষ দৃশ্যে তাপস পালকে একটি বড় পুকুরে নামতে হয়েছিল। শ্যুটিং শুরু হওয়ার আগে তরুণ মজুমদার বারবার তাপস পালের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এই শট করতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি? সমস্যা হলে আমরা অন্যভাবে করতে পারি।”

পরিচালক চেয়েছিলেন নিশ্চিতভাবে বুঝতে যে অভিনেতা পুরোপুরি আরামদায়ক আছে কি না। প্রথমে তাপস পাল নিজেই বলেছিলেন, “কোনও সেফটি লাগবে না, আমি এর আগে বহু শট করেছি।” কিন্তু তরুণ মজুমদার কোনওভাবেই নিজের পদ্ধতি থেকে সরে আসেননি। তিনি লাঠি দিয়ে পুকুরের জলের গভীরতা মাপলেন এবং দেখলেন, তাপস পাল জলে নামলে জল কতটা তার শরীর ঢেকে রাখছে। বারবার তাপস পাল বললেও যে কোনও সুরক্ষা লাগবে না, পরিচালক জোর দিয়ে বলেছিলেন, “তোমার সুরক্ষা আমার দায়িত্ব!

তাই নিরাপদভাবে শট হবে।” সৌভিক সিকদার পরে লিখেছেন, এই দৃশ্যই দেখিয়েছে যে একজন পরিচালক ও প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীদের নিরাপত্তা সব সময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে। যদি দায়িত্বে অবহেলা হয়, তা মুহূর্তের মধ্যে একটি জীবন শেষ করতে পারে। রাহুলের ঘটনা সেই দায়িত্বের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ২০১২ সালের সেই ঘটনা আমাদের শেখায় যে পরিচালক সতর্ক থাকলে বিপদ এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ “একজন শিল্পী অনেক সময়ই একা হয়ে পড়েন, কাজের চাপে তাঁর মানসিক অবস্থা…” লীনার বিরুদ্ধে এফআইআর, রাহুলের মৃ’ত্যুতে মায়ের সমর্থনে যুক্তি দিলেন অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়! মৃ’ত্যুর রহস্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন তিনি, পরিণতির জন্য কি দায়ী করলেন অভিনেতাকেই?

তরুণ মজুমদারের উদাহরণ দেখায়, শিল্পীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু নিয়ম নয়, মানবিক দায়িত্বও। শুটিং চলাকালীন যেকোনো ঝুঁকি বিবেচনা করা এবং সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া একটি পেশাদারিত্বের দিক। বর্তমান সময়ে রাহুলের ঘটনায় এই বার্তা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। টলিউডে আবারও আলোচনা হচ্ছে, কিভাবে শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ রাখা যায়। অতীতের এই উদাহরণ নতুন প্রজন্মের পরিচালক ও প্রযোজকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

You cannot copy content of this page