“এই ঘটনার পর আর কাজ করতে পারছি না, রাহুলের মৃ’ত্যু আমাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে” নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, এটাই চাওয়া! অম্বরীশের পর এবার লীনার ধারাবাহিক ছাড়লেন রাজন্যা মিত্র! প্রযোজনা সংস্থাকে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী?

ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে দীর্ঘদিন ধরে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছিলেন রাজন্যা মিত্র (Rajanya Mitra)। হঠাৎ শুটিং চলাকালীন রাহুলের মৃত্যুতে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের মানসিক অবস্থার কথা খুলে বলেন রাজন্যা। তিনি জানান, এই ঘটনায় তিনি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন এবং মানসিকভাবে খুবই আঘাত পেয়েছেন। সহকর্মী হিসেবে নয়, একপ্রকার পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তাই এই ক্ষতি তাঁর কাছে আরও বেশি কষ্টের।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে তিনি চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছেন। পুরো বিষয়টি এখনও তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে। রাজন্যা জানান, গত ২৯ মার্চ দুপুর প্রায় ৩টার সময় তালসারিতে তাঁর শুটিং শেষ হয়ে যায়। এরপর বাড়ি ফেরার পথে তিনি এই ভয়াবহ ঘটনার খবর পান। ফলে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি নিজে দেখেননি। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে একেবারেই স্বাভাবিক হতে পারেননি। এই মানসিক চাপ তাঁর শরীরেও প্রভাব ফেলেছে বলে জানান অভিনেত্রী।

বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বিশ্রামে আছেন। পুরো ঘটনার অভিঘাত থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকটির কাজে ফেরার জন্য তাঁকে আবার ডাকা হয়েছিল বলেও জানান রাজন্যা। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজের মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি এটাও বলেন, কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে।

তাই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে, তিনি আবার আগের মতোই অভিনয়ে ফিরবেন। দর্শকদের ভালোবাসা এবং আবেগকে সম্মান জানিয়ে এতদিন তিনি চুপ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের মত প্রকাশ করা জরুরি মনে করেছেন তিনি। প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ১১ বছরের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান রাজন্যা। এই সময়ে তিনি একাধিক প্রজেক্টে কাজ করেছেন এবং সংস্থার কাছ থেকে সবসময় সহযোগিতা পেয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায় কখনও কোনও অবহেলা চোখে পড়েনি বলে তিনি দাবি করেন।

বিভিন্ন আউটডোর শুটিং, এমনকি গত বছর পুরীর সমুদ্র সৈকতে কাজ করার সময়ও সবকিছু ঠিকঠাক ছিল বলে জানান তিনি। তবে তালসারির সেই দিনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে চান রাজন্যা। যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন। তিনি আরও বলেন, যদি প্রযোজনা সংস্থার কোনও দায় থাকে, তবে তারা নিশ্চয়ই তা স্বীকার করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: “অনেকে বলে মা আমার কাছে থাকে, আমি বলি আমিই মায়ের কাছে থাকি” মৃ’ত্যুর কয়েকদিন আগেই আবেগঘন স্বীকারোক্তি রাহুল অরুণোদয়ের! সেই ছেলের অকাল প্রয়াণে মায়ের জীবন নিঃশব্দ শূন্যতায়, চোখে শুধু হারানোর যন্ত্র’ণা! কেমন ছিল তাঁদের সম্পর্ক? ছেলেকে নিয়ে কোন স্মৃতি ভাগ করলেন মা?

তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একে অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ম্যাজিক মোমেন্টস এবং তাদের কর্ণধারদের উপর তাঁর বিশ্বাসের কথাও জানান। আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেটিকেও তিনি সমর্থন করেছেন। তাঁর একটাই আবেদন, এই সবের মধ্যে যেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট থাকে।

You cannot copy content of this page