টলিউড শোকের সাগরে ভেসেছে রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির অকাল মৃত্যুতে। সম্প্রতি আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগে রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে মিছিল ও কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, যারা সকলকে ধন্যবাদ জানান পাশে থাকার জন্য। তিনি বলেন, “গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়। এখানে কোনো বিভাজন নেই, কোনো রাজনৈতিক রং নেই; নেই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত।” প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট করেছেন, রাহুলের মৃত্যু সকলকে একত্রিত করেছে এবং এই ঐক্য যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে।
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিও সংবাদ মাধ্যমে বারবার উল্লেখ করেছেন, “এই লড়াই সকলের, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা মিলে একটাই পরিবার। সেই পরিবার রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চায় এবং সত্যিটা জানতে চায়।” প্রিয়াঙ্কা সরকারও একই কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একটি মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে এক সুতোয় গেঁথে দিল। তবে এই অকাল প্রয়াণ যেন নিছক শোকের স্মৃতি না হয়ে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করে।”
২৯ মার্চ ভোলেবাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় ভোলেবাবা পার করেগা সিরিয়ালের সেটে দুর্ঘটনায় রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি সমুদ্রের জলে ডুবে মারা যান। এরপর আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠানো হয় মৃত্যুর কারণ জানার জন্য। আশানুরূপ উত্তর না পাওয়ায়, সদস্যরা এফআইআর দায়ের করেন। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ছিলেন ভরত কল, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, শান্তিলাল মুখার্জি, সৌরভ দাস, লাবণী সরকার, বাসবদত্তা চ্যাটার্জি, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।
ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শুটিংয়ের সময় সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তবুও দুর্ঘটনা ঘটে। সংস্থার বক্তব্যে বলা হয়েছে, “আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছি। কিন্তু অধিকাংশই ট্রমাটাইজড। আমরা চাইছি আরও কিছু সময়, যাতে বিভিন্ন বিবৃতিকে সুসংগঠিতভাবে গ্রহণ করা যায়। পরে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে।” প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি উল্লেখ করেছেন, এই দুর্ঘটনা শিল্পী ও কলাকুশলীদের আরও সচেতন করবে এবং ভবিষ্যতে সুরক্ষার দিকে নজর বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুনঃ কথা রাখলেন দেব! ৭২ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতিতে নি’ষিদ্ধ শিল্পীরা ফিরলেন কাজে! মেগাস্টারের পদক্ষেপে, অশান্ত টলিপাড়ায় ফিরছে স্বস্তি! কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কী বার্তা তাঁর?
প্রিয়াঙ্কা সরকার আক্ষেপের সুরে লেখেন, “টেকনিশিয়ান হোন বা শিল্পী মৃত্যুর পর নিজের সম্মান আর মর্যাদার লড়াই যেন আর কাউকে লড়তে না হয়।” তিনি আবারও ধন্যবাদ জানান সকলকে পাশে থাকার জন্য এবং আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনা যেন শুধু শোকের স্মৃতি না থেকে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির সূচনা হয়। প্রিয়াঙ্কা সরকারের এই বক্তব্য টলিউডের শিল্পীদের মধ্যে একতার বার্তা হিসেবে উদিত হয়েছে।






