মধ্যরাতে শুটিং থেকে ফিরে চরম হেনস্থার শিকার হলেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শ্রীময়ী জানিয়ে দেন, নির্বাচনের সময় নাকা চেকিং হওয়া স্বাভাবিক বিষয় হলেও, তাঁর টলিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বাঁদিকে ঘুরতেই তাঁর গাড়ি থামিয়ে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তাতে তিনি খুবই বিরক্ত। বিশেষ করে, গাড়ির সামনে থাকা বোর্ড এবং সেমি কালো কাচের কারণে তিনি যে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন।
শ্রীময়ীর ভাষ্যমতে, নাকা চেকিংয়ের সময় তাঁর সঙ্গে পুলিশের যে আচরণ করা হয়েছে, তা মোটেও মানবিক ছিল না। তার ব্যাগ খুলে ফেলা হয়, যেখানে ছিল তাঁর মেকআপ কিট, অন্তর্বাস, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস। তিনি জানান, পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর ব্যাগে পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন, তবে ব্যাগ খুলে পরীক্ষা করতে গিয়ে সেখানকার সমস্ত ব্যক্তিগত জিনিস প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়। তাঁর মতে, যদি এমন চেকিংই করতে হয়, তবে এটি কেন একমাত্র পুরুষ পুলিশকর্মীদেরই করা হচ্ছে, মহিলা পুলিশ কেন ছিল না?
এই সময় শ্রীময়ী পুলিশের কাছে নিজের অসুস্থতার কথা জানান, কিন্তু সেসব উপেক্ষা করা হয়। তাঁর ওষুধের বাক্সও খোলা হয়, এবং পুলিশ সদস্যরা তা নিয়ে অস্বাভাবিক মনোভাব প্রকাশ করেন। অভিনেত্রী বলেছেন, “তারা আমাকে নাটক করছেন বলে মন্তব্য করেন, কিন্তু আমি তো সত্যিই অসুস্থ ছিলাম।” এ ধরনের আচরণ নিয়ে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “মধ্যরাতে এমন আচরণ মোটেও মেনে নেওয়া যায় না। একজন মহিলার সঙ্গে এমন খারাপ ব্যবহার কি করে করা হয়?”
একই সঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানবিকতার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “পুলিশের কাছে দায়িত্ব পালনের সময় মানবিকতা থাকতে হবে। একে অপরের সাথে খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ পুলিশও মানুষের মতো। তাদেরও তো মা-বোন আছে, তাদের জায়গায় যদি কেউ থাকতো, তাহলে কি এমন আচরণ করতেন?” শ্রীময়ীর এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে একটি ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে তিনি তাঁর এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন এবং সমাজে মানবিকতার অভাবের কথা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: প্রেম করে বিয়ে, তবুও ১০ বছরে কোনোদিন এক ছাদের নিচে করা হয়নি সংসার! কেন স্বামীর থেকে আলাদা থাকেন গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী? সম্পর্কে কি ফাটল, নাকি লুকিয়ে অন্য কোনও সত্য?
এ ঘটনার পর শ্রীময়ী চট্টরাজ সবার কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, “কোনও গাড়ির মধ্যে কী থাকতে পারে, সেটা তো পুলিশকে বুঝতে হবে। একজন মহিলা শিল্পীও তো কখনও বেআইনি কাজ করতে পারে না।” শ্রীময়ী বলেন, “আমি ঠিকঠাক শুটিং করে ফিরছিলাম, অথচ পুলিশ আমার ব্যাগ খুলে সবকিছু দেখার নামে আমাকে অপমানিত করেছে।” তিনি আরও জানান, “এটা একটা সিস্টেমের মধ্যে চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মতো মনে হয়েছে, যা বাস্তবিকভাবে মানবিক মূল্যবোধের সাথে যায় না।”






