প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার অনুরাগী এবং চলচ্চিত্রের শিল্পী মহলে। প্রখ্যাত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় শোক প্রকাশ করে জানান, “আশাজী না থাকলে, উনি আমার জন্য গান না গাইলে আমি দেবশ্রী রায় হতেই পারতাম না। উনি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।” দেবশ্রী রায় জানান, আশাজী ছিলেন তার সঙ্গীত জীবনের অন্যতম বড় প্রেরণা, এবং আজও তিনি শো-এ গিয়ে আশাজীর গান গাইতে ভালোবাসেন।
দেবশ্রী রায় আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ছোটবেলায় আমি আর আমার দিদি রুমকি ঝুমকি কিশোর কুমার বা মহম্মদ রফি নাইটে নাচতাম। আর ডি বর্মন-আশা ভোঁসলে নাইটও ছিল। তখন আশাজীর গান শোনা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল।” আশাজী যখন জানলেন, ত্রয়ী সিনেমার গান গাইবেন দেবশ্রী রায়ের জন্য, তখন তিনি দুই দিন ঘুমাতে পারেননি সেই আনন্দে। দেবশ্রী রায় বলেন, “ত্রয়ী ছবির গানগুলোর জন্য আমি হিট হয়েছিলাম, আর এই কৃতিত্ব পুরোপুরি আশাজীর।”
অভিনেত্রী দেবশ্রী আরও বলেন, আশাজী তার গানের মাধ্যমে যে অমর সঙ্গীত সৃষ্টি করেছেন, তা একেবারে অমূল্য। তিনি বলেন, “অথবা একজন পরিচালকের কাছে যখন গান গাওয়ার জন্য আশাজীকে ডাকা হত, তখন উনি সবচেয়ে প্রথমে জানতে চাইতেন, কার জন্য গাইছি। এবং এরপর সেই চরিত্রের জন্য সুর সৃষ্টি করতেন।” আশাজীর গান, তার কণ্ঠ, এবং তার দক্ষতা ছিল সত্যিই অবিস্মরণীয়। “কখনও একটা ছোট ভুল হলেও উনি নিজেই বলতেন, আবার একবার গাইব।”
আরও পড়ুনঃ আরডি বর্মনকে ‘বাধ্য’ হয়ে বিয়ে করেছিলেন আশা ভোঁসলে? কেন নিজের থেকে ৬ বছরের ছোট পঞ্চমের সঙ্গে কাটালেন জীবন? শেষ বয়সে ছিল কোন আক্ষেপ? জানুন সেই অবিশ্বাস্য প্রেমকাহিনী!
দেবশ্রী রায় জানান, শঙ্খচূড় ছবির গানের জন্যও তিনি আশাজীকে অনুরোধ করেছিলেন। “আশাজী না গাইলে, আমি ওই গানে লিপ দেব না। আমি ফ্লোরে যাবই না,” এমন দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি আশাজীকে গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। দেবশ্রী রায় আরও বলেন, “আশাজী ছাড়া আমি চলচ্চিত্রের এই সফলতা পেতাম না। এককথায়, আমার কেরিয়ারে তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না।” তার এই শোকের সঙ্গে রয়েছে চিরকালীন শ্রদ্ধা, যে আশাজীকে তিনি একজন শিক্ষক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিল্পী হিসেবে শ্রদ্ধা করেন।
দেবশ্রী রায়ের স্মৃতিচারণায়, তিনি আশাজীর শৌখিনতারও প্রশংসা করেন। একবার তিনি আশাজীকে একটি শাড়ি উপহার দিয়েছিলেন, যা আশাজী খুব পছন্দ করেছিলেন। পরে আশাজী তার জন্য সেই শাড়ির দোকান থেকে আরও শাড়ি কিনে ছিলেন। “সে সময় তার শৌখিনতা এবং সুরের প্রতি তার মনোযোগ ছিল একেবারে নিখুঁত,” বলেন দেবশ্রী রায়। আজও পুজোর প্যান্ডেলে আশাজীর গানের সুর বাজে, যা তার অবদানের প্রমাণ দেয়। আশাজীর শোকাবহ প্রয়াণে দেবশ্রী রায়ের হৃদয়ে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা বলার ভাষা নেই।






