“সাপ হাতে নিয়ে শুটিং করেতে হয়েছে…চোখের সামনে বিদীপ্তা বিদ্যুৎস্পৃ’ষ্ট হয়ে হাসপাতালে, বাঁচবে কিনা ঠিক ছিল না” রাহুলের মৃ’ত্যু নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন অপরাজিতা আঢ্য! “ম্যাজিক মোমেন্টস শিল্পীদের যথেষ্ট সম্মান দেয়, তবে…” লীনার সঙ্গে কাজের কোন অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

বিনোদন জগতকে বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, ভেতরের চিত্র কিন্তু অনেকটাই আলাদা। ক্যামেরার সামনে যে নিখুঁত দৃশ্য আমরা দেখি, তার পিছনে লুকিয়ে থাকে অগণিত পরিশ্রম, ঝুঁকি এবং অজানা অভিজ্ঞতা। কখনও কখনও সেই অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে বিপজ্জনকও। সম্প্রতি অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য এই ইন্ডাস্ট্রির এমনই কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন, যা নতুন করে ভাবাচ্ছে সবাইকে।

প্রথমেই তিনি স্পষ্ট করে জানান, কেন তিনি সহ-অভিনেতা রাহুলের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর কথায়, ঘটনার পরদিনই তাঁর পূর্বনির্ধারিত কাজের জন্য ওড়িশা যেতে হয়েছিল। তবে শুধু তা-ই নয়, মানসিক দিক থেকেও তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। খুব কাছের মানুষের মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে না থাকতে পারার জন্য তিনি ক্ষমাও চান দর্শকদের কাছে।

আরও পড়ুনঃ “যখন থেকে এই তৃণমূল সরকার এসেছে, তাবেদারী না করলে কাজ জোটে না” শাসকদলকে কটাক্ষ করে বামেদের সমর্থন, জিতের ভাইরাল পোস্টে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে! আসল নয় ভুয়ো, সত্যিটা জানালেন অভিনেতা?

এরপর তিনি শুটিংয়ের নানা ঝুঁকির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। প্রায় ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে কতবার যে বিপদের মুখে পড়েছেন, তার কোন ঠিক নেই বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একসময় সত্যিকারের সাপ হাতে নিয়ে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে, যা তাঁর কাছে ভীষণ ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল। আবার কখনও আগুনের প্রদীপের মাঝে দৌড়ে শট দিতে হয়েছে, যেখানে সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।এমনকি একবার শুটিং চলাকালীন তাঁর সহ অভিনেত্রী বিদীপ্তা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছিল যে তিনি বাঁচবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ ছিল। এই ঘটনাগুলি থেকেই স্পষ্ট, শুটিং ফ্লোর কতটা অনিশ্চয়তায় ভরা।

অভিনেত্রীর কথায়, এই বিপদের মধ্যেও সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন টেকনিশিয়ানরা। তাঁরাই সবসময় সতর্ক করেছেন, বিপদের সময় পাশে থেকেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ম্যাজিক মোমেন্টসের কথা। তাঁর মতে, এই প্রোডাকশন হাউস শিল্পীদের যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মান দেয়। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানালে কাজের সময় পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে তাঁর সুবিধার জন্য। শিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়ার এই মানসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তাই সবক্ষেত্রে একইভাবে দায় চাপানো ঠিক নয় বলেই মত তাঁর।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন, এতদিন যে মানসিকতা ছিল ‘লজ্জা, ভয় ভুলে কাজ করতে হবে’ তা আর ঠিক নয়। তাঁর কথায়, জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশি। আগে কখনও আলাদা করে নিরাপত্তার কথা ভাবা হয়নি, কিন্তু এখন সময় এসেছে সেই ভাবনার পরিবর্তন করার।

তিনি আরও বলেন, একটা দুর্ঘটনা গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কারণ শেষ পর্যন্ত, যেকোনো কাজের চেয়েও মানুষের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

You cannot copy content of this page