“বিজেপি সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি…অভয়ার বিচার এখনও হচ্ছে না!” কৌশিক সেনের বি*স্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়! “ধান্দাবাজটা আবার খোলস থেকে বেরিয়েছে, পুরোপুরি বামমনস্ক”, “বাংলার মানুষই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে, এটা গণতন্ত্রেরই অপমান” অভিনেতাকে পাল্টা কটাক্ষ নেটিজেনদের!

সিনেমা, টেলিভিশন এবং নাটকের মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন কৌশিক সেন। তিনি বর্ষীয়ান অভিনেত্রী চিত্রা সেন এবং অভিনেতা শ্যামল সেনের পুত্র। তাঁর স্ত্রী রেশমি সেনও থিয়েটারের পরিচিত মুখ। ছেলে ঋদ্ধি সেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত নিয়েও বরাবরই স্পষ্ট কৌশিক। সেই কারণেই বিভিন্ন সময়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কটাক্ষের আশঙ্কায় নিজের বক্তব্য বদলে ফেলার পক্ষপাতী নন অভিনেতা। সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতেও অতীতে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে।

একসময় সিঙ্গুরের ঘটনা নিয়ে বাম সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন কৌশিক সেন। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিছিলেও পা মিলিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিকবার সরব হয়েছেন অভিনেতা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিপাড়ার কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে মিলে ‘নিজেদের মতো নিজেদের গান’ তৈরি করেছিলেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মতো বিষয়েও নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন কৌশিক। এবার একটি সাক্ষাৎকারে বাংলায় আসতে চলা নতুন সরকার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেও কটাক্ষ করেছেন।

‘আড্ডা জিবি’ পডকাস্টে কৌশিক সেনকে বলতে শোনা যায়, “বিজেপি যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি, এটা এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে, সারা ভারতবর্ষে প্রমাণিত। অভয়ার বিচারের ক্ষেত্রে আমরা ভেবেছিলাম কাল বিজেপি আসবে, পরশু অভয়া বিচার পেয়ে যাবে। হচ্ছে না।” এরপর শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়েও নিজের বক্তব্য জানান অভিনেতা। তিনি বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য, একটা সময় থিয়েটারে ওঁকে দেখেছি উনি মুখস্থ বলতে পারেন কবিতা।” তাঁর দাবি, শমীক ভট্টাচার্য যতই ‘না, এরকম করে না, ছিঃ’ বলুন, সেই ‘ছিঃ’ কেউ শুনছে না। কৌশিক আরও বলেন, “রোজ তোলাবাজি হচ্ছে, রোজ আক্রমণ হচ্ছে।” এই বক্তব্যের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ উচ্ছেদ করার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কৌশিক সেনের কথায়, “আমার দৃশ্যদূষণ হবে বলে আমরা কতগুলো নোংরা ছেঁড়া জামাকাপড় পরা মানুষ, কতগুলো ছোট ছোট চায়ের দোকান, স্টেশনারি শপ, এগুলো আমরা চোখের সামনে দেখতে পারছি না বলে উচ্ছেদ করে দিলাম।” এরপর তাঁর প্রশ্ন, ভোটের আগে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কি এই ধরনের কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল? তাঁর এই বক্তব্যের অংশ সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। একজন সরাসরি লিখেছেন, “ধান্দাবাজটা আবার খোলস থেকে বেরিয়েছে।” অন্য একজন কৌশিককে ‘ভণ্ড’ এবং ‘দলবদলু’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই মন্তব্যে তাঁকে নিয়ে দাবি করা হয়েছে, তিনি নিজেকে ভালো মানুষ বা বুদ্ধিজীবী হিসেবে তুলে ধরতে চান। এমনকি তাঁর অভিনয় এবং থিয়েটারের পরিচয় নিয়েও সেই ব্যক্তি তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি যখন চালাতে পারিনি, আমার স্ত্রী সংসারটা টেনেছিল…ওকে নিয়ে পরে আত্মীয়দের কটা’ক্ষও শুনতে হয়েছিল!” অঞ্জন দত্তের কথায় উঠে এল দাম্পত্য জীবনের কঠিন সময়ের অজানা অধ্যায়! ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমান পেরিয়ে কীভাবে একে অপরকে ৪৭ বছর ধরে আগলে রেখেছেন তাঁরা? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দাম্পত্যের দায়িত্ব নিয়ে কী পরামর্শ দিলেন তিনি?

তবে সমাজমাধ্যমে শুধু বিরোধিতাই দেখা যায়নি, কৌশিক সেনের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। একজন লিখেছেন, যেখানে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি হবে, সেখানে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়েও নীরবতা দেখা যায়। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ যাঁদের বাহুবল বা অর্থবল নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আরেকজন কৌশিকের ‘বিজেপি সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি’ মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য গণতন্ত্রেরই অপমান। তিনি আরও লিখেছেন, কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি ক্ষমতায় আসেনি, বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে দলটিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ফলে কৌশিকের বক্তব্যকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে সম্পূর্ণ বিপরীত দুই ধরনের মতামতই সামনে এসেছে। সমর্থন এবং সমালোচনার এই পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেতা।

You cannot copy content of this page