“জেতার পরেও প্রার্থীর প্রশিক্ষণ ভীষণ জরুরি, বেশির ভাগের কাছে কোনও প্রশিক্ষণ নেই!” “পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে দলের উপর আস্থা ক্রমেই কমছে”, তারকা ভোটার হিসেবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট মতামত ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের! আপনারাও কি সহমত?

ভোটের সময় সাধারণ মানুষ থেকে তারকাদেরও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, জনপ্রিয় অভিনেতা ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের কিছু মতামত উঠে এসেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মুখ্যমন্ত্রী এমন কেউ হবেন যিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের কথা বলবেন, এক দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়। তাঁর মতে, রাজনীতিতে প্রশাসন এবং শাসকদল দুটি আলাদা থাকতে হবে। ঋতব্রত জানিয়ে দিয়েছেন যে, আজকের দিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর একটি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে মানুষের মতামতের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে।

রাজনৈতিক দলের থেকে বেশি গুরুত্ব দেন প্রার্থী নির্বাচনকে, এমনটাই জানিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের দলের প্রতি আস্থা ক্রমেই কমছে। এমন অবস্থায় প্রার্থী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সঠিক প্রার্থী বাছাই করতে হলে তাঁদের যোগ্যতা এবং সামর্থ্য যাচাই করাটা অপরিহার্য। পাশাপাশি, বিধায়ক হওয়ার পর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতামত প্রকাশ করেছেন তিনি। ঋতব্রত মনে করেন, বিধায়করা যদি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পান, তাহলে তাদের কাজ করার দক্ষতা অনেক বেশি বাড়বে এবং এটি রাজনীতির জন্য ভালো হবে।

যদি তিনি নিজে বিধায়ক হতেন, তবে রাজনীতি সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ঋতব্রত। তবে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে তাঁর কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ এবং শুটিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যা রয়েছে, যা ভোট প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে। ঋতব্রত বিশ্বাস করেন, সঠিকভাবে এসব সমস্যা উত্থাপন হলে রাজ্যের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন পশ্চিমবঙ্গে শুটিং নিয়ে সংশয় রয়েছে, এবং এটাকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ করা উচিত বলে মনে করেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে প্রচারের প্রভাব কমানো উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত। তাঁর মতে, নির্বাচনে প্রচারের নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে আপোস করা, রান্নাঘরে ঢুকে ভোট চাওয়া, এসব বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, এই ধরনের প্রচার শুধুমাত্র গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা। নির্বাচনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল জনগণের চাহিদা পূরণ করা, আর তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিক প্রচারের ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকা উচিত।

দলবদলের বিরুদ্ধে তিনি একটি সুরাহা পদ্ধতির কথা বলেন। ঋতব্রত বলেন, যেমন চাকরি বা অভিনয়ে প্রোবেশন পিরিয়ড থাকে, তেমনি দলের প্রতি আনুগত্য যাচাই করার জন্য কিছু সময়ের জন্য প্রোবেশন পিরিয়ড থাকা উচিত। এতে করে দলের প্রতি অবিচলতা তৈরি হবে এবং ঘন ঘন দলবদল কমবে। তিনি বলেন, একজন প্রার্থী যদি দল পরিবর্তন করে, তবে তাকে অবশ্যই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে এবং তার রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও থাকতে হবে। এর মাধ্যমে দলবদল এবং রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ পয়লা বৈশাখ কাটতেই টিআরপিতে বড় উলটপালট! ফের বাজিমাত ‘তারে ধরি ধরি’র, তালিকা থেকেই উধাও ‘রাঙামতি’! ‘পরিণীতা’র রাজত্ব কি থাকল বজায়? শীর্ষ পাঁচে এবার কারা?

শেষে, ঋতব্রত দেশের সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং সমান অধিকার নিয়ে ভোট প্রচারের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, এসবের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, “কর্মক্ষেত্রের প্রসার ঘটানো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।” তাঁর মতে, যে সকল মানুষ নিজেদের শহর বা রাজ্য ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা উচিত, যাতে তারা রাজ্যে কাজের সুযোগ পান। এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে।

You cannot copy content of this page