রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার আত্মীয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে এখন তুমুল ব্যস্ততা চলছে। আজ, একদিনে তাঁরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং দক্ষিণবঙ্গের দমদম-বসিরহাটে প্রচার করলেন। এই প্রচারের উদ্দেশ্য দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা, কারণ এই দুই এলাকায় তৃণমূলের কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের দল শান্তিপ্রিয় হলেও, কোনো অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপির আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বলেন, “এই নির্বাচন আর কোনও উৎসব নয়, এটি অত্যাচারের উৎসব।” এদিকে, দমদমের নির্বাচনী সভায় মমতা এক পর্যায়ে একটি এমন মন্তব্য করে বসেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, “দেবাশিস কুমারের মেয়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের ছেলের বিয়ে হয়েছে।” কিন্তু বাস্তবে, দেবাশিস কুমারের মেয়ে দেবলীনা কুমারের বিয়ে উত্তম কুমারের ছেলে না, বরং নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
এই ভুল মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতার বিরুদ্ধে কটাক্ষ ও বিদ্রুপ শুরু হয়ে যায়। যদিও দেবলীনা কুমার বা তার পরিবারের থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবুও এই মন্তব্যটি ঘিরে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মহিলাদের যে কীভাবে ইন্সপেকশন করা হচ্ছে, সেটা খুবই বিপজ্জনক। যারা রাস্তায় হাঁটছে, তাদের ব্যাগ চেক করা হচ্ছে। সাবধান থাকতে হবে, কারণ এইসব ঘটনায় হস্তক্ষেপ করা সহজ নয়।” মমতার এই মন্তব্যের পেছনে, বিজেপির বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ পরিষ্কার।
তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাংলায় ভোটে জয়ী হতে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার ব্যবহার করছে এবং রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে। এই ধরনের মন্তব্যের পর, তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে, বিশেষত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেছেন, “একতরফা কাজ করবেন না, দেশের জন্য কাজ করুন।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে চরম অন্যায় অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যখন আসল অপরাধীরা দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছে।”
এর পাশাপাশি, মমতা দমদম ও কোচবিহারের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বিজেপির দখলদারির চেষ্টা মোকাবিলা করতে দলের কর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার কথায়, “আপনাদের মাথা নত করতে হবে না, লড়াই করতে হবে।” শেষে, মমতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও ভোটার তালিকার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “৩২ লক্ষ নামের তালিকা আমি সুপ্রিম কোর্টে তুলে ছিলাম, এখন ট্রাইবুনালে কাজ চলছে।
আরও পড়ুনঃ “গত দেড় বছর আমার গলা নিয়ে যে ভোগান্তি হয়েছে, কেউ কল্পনাও করতে পারবে না” “সেটাই আমার কাছে ফিরে এসেছে, আমি যা যা নেগেটিভ…” গলার অ’সুখে অসহনীয় যন্ত্র’ণা, সুস্থ হতেই জীবন নিয়ে কোন উপলব্ধি জয়তী চক্রবর্তীর? বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ফিরিয়ে দেয় সবকিছুর জবাব, কি জানালেন গায়িকা?
যাদের নাম উঠবে, তারা যেন ভোটার তালিকা পায়।” তার এই মন্তব্যের মধ্যে, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রতি তার দৃঢ় মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যতই ইডি বা আয়কর হানার চেষ্টা করুক, তৃণমূল এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকবে।” তবে, মমতার একটি ভুল মন্তব্যের পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হলেও, তিনি যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও আপোষ করতে রাজি নন, সেটি আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেছে।






“দেবাশিস কুমারের মেয়ে দেবলীনার সঙ্গে তো উত্তম কুমারের ছেলের বিয়ে হয়েছে” দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! দমদমের প্রচার সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়! কী প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর?