বাংলা টেলিভিশন ও অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ ববি চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অভিনয় দক্ষতার জন্য দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। বিভিন্ন ধারাবাহিক ও প্রজেক্টে কাজ করে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তবে এবার তিনি অভিনয় নয়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু অজানা বাস্তবতা নিয়ে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এক ধরনের “অলিখিত ষড়যন্ত্র” কাজ করছে, যা বিশেষ করে দক্ষ অভিনেতাদের প্রভাবিত করছে।
ববি চক্রবর্তীর কথায়, এই ষড়যন্ত্রের ফলে ভালো অভিনেতাদের ইচ্ছে করে এমন চরিত্র দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাঁদের গুরুত্ব কমে যায়। তিনি বলেন, অনেক প্রতিভাবান শিল্পীকে ইচ্ছাকৃতভাবে “বাবা, কাকা, মামা” বা পার্শ্বচরিত্রে সীমাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁরা কখনও মূল আলোচনায় না আসেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে সেই অভিনেতাদের পরিচিতি কমে যায় এবং তারা যেন অচেনা হয়েই থেকে যান দর্শকদের কাছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা একটা পরিকল্পিত বিষয়, আমি একে ষড়যন্ত্র বলব।”
এই পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, অনেকেই হয়তো অর্থের প্রয়োজন বা অন্য কারণে এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেন, কিন্তু তিনি তা করতে রাজি নন। তিনি বলেন, “আমার টাকার দরকার নেই এমন নয়, কিন্তু তার থেকেও বড় কথা হল আমি আমার কাজ থেকে কতটা সৃজনশীল তৃপ্তি পাচ্ছি।” তাঁর মতে, এত ভালো কাজ করার পর আবার এমন চরিত্রে ফিরে যাওয়া, যেখানে কোনও গুরুত্ব নেই, তা তিনি মেনে নিতে পারেন না।
সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ববি। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি নতুন কাজের প্রস্তাব পান, কিন্তু কথাবার্তা শুনেই তাঁর সন্দেহ হয়। চরিত্রের গুরুত্ব বা গভীরতা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। বরং তিনি বুঝতে পারেন, শেষ পর্যন্ত সেটি একটি সাধারণ পার্শ্বচরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সেই কারণেই তিনি প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রশংসা বা বড় বড় কথা শুনিয়ে একজন অভিনেতাকে রাজি করানো ঠিক নয়, চরিত্রের প্রকৃত গুরুত্বটাই আসল।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বর্তমান সময়ের কাস্টিং ট্রেন্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ববি চক্রবর্তী। তাঁর মতে, এখন অনেক ক্ষেত্রেই অভিনয় জানুক বা না জানুক, শুধুমাত্র তরুণ মুখদের সামনে এনে দেওয়া হচ্ছে। অথচ একটি ভালো প্রজেক্টের জন্য প্রত্যেকটি চরিত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি অতীতের জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলির উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই সময় কোনও একক চরিত্র নয়, বরং প্রতিটি চরিত্রই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেত। তাই দর্শকরাও প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করতেন।
আরও পড়ুনঃ “আমি কখনো কিছুই বলিনি, আমার কেরিয়ার শেষ…” রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যু নিয়ে মুখ খোলার প্রসঙ্গকে, মিথ্যে ও ভুয়ো খবর বলে উড়িয়ে দিলেন শ্বেতা মিশ্র! কারা রটাচ্ছে অভিনেত্রীর নামে এইসব? কাদের উদ্দেশ্যে ‘ভয় পান না’ বার্তা তাঁর?
টেলিভিশন মাধ্যমের দর্শক মনস্তত্ত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, একটি এপিসোডের সময় খুবই সীমিত, সেখানে যদি সব চরিত্র শক্তিশালী না হয়, তাহলে দর্শক সহজেই চ্যানেল বদলে ফেলতে পারেন। তাই শুধুমাত্র কয়েকজনকে প্রাধান্য দিয়ে ভালো প্রজেক্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ববি চক্রবর্তীর এই মন্তব্য ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতেই শুরু করেছে।






