“আমার গানকে অপসংস্কৃতি বলেছিল ওরা, আমি থেমে যাইনি” “এখানে দুর্নী’তি তো স্কুলের সময় থেকেই শেখানো হয়…দেশের কথা ভাবুন, তবে নিজের ‘ঘর’ সবার আগে” বাংলায় নির্বাচনী আবহে সোজাসাপটা ঊষা উত্থুপ! সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কী বার্তা বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পীর?

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাঁর মতো জনপ্রিয় একজন তারকা ভোটার, যিনি শুধু নিজে ভোট দেন না, বরং তাঁর ভাবনা ও চিন্তা অনেকের কাছে দিশা দেখায়। যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কী দল দেখে ভোট দেন, না প্রার্থী দেখে, ঊষা স্পষ্ট বলেন, “আমি দেশের উন্নতির কথা ভাবি। তবে তার আগে, নিজের ‘ঘর’টা ঠিক থাকা উচিত।” অর্থাৎ, ভোট দেওয়ার আগে, তাঁকে ভাবতে হয়, তাঁর পরিচিত পরিবেশে ভালো কীভাবে থাকবে এবং তার ভিত্তিতেই তিনি প্রার্থীকে বেছে নেন।

একটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, “যদি প্রার্থী হিসেবে আপনাকে নির্বাচিত করা হয়, আপনি কীভাবে কাজ করবেন?” ঊষা বলেন, “এই প্রশ্নটা তো অনেক দেরি হয়ে গেল।” তাঁর মতে, প্রার্থীর বিবেক এবং সততা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ সৎ না হন, তবে তার পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুই পরিবর্তন হবে না। তাঁর দৃষ্টিতে, একজন মানুষের সততা এবং দেশপ্রেমই আসল বিষয়। এমনকি তিনি নিজে বিধায়ক হওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেননি, কারণ তাঁর বিশ্বাস, তিনি গান গেয়ে বা ভালোবাসা দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।

ঊষা উত্থুপের গান ও পেশার জগতেও কিছু অভিযোগ ছিল, বিশেষত যখন তাঁর গানকে অপসংস্কৃতি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সে সময়েও ঊষা নীরব থাকেননি, বরং তিনি গেয়েছিলেন, “আমি শিল্পী, চাই শিল্পীর সম্মান।” তিনি মনে করেন, আজ আর তার কোনও অভিযোগ নেই। বর্তমানে, তিনি মনে করেন, তাঁর গানই তার বার্তা পৌঁছে দেয় এবং এজন্য কোনও নির্বাচন প্রচারে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। তাঁর মতে, একমাত্র সৎ প্রার্থীই সমাজে পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি নিয়ে ঊষার মন্তব্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “দুর্নীতি তো ছোটবেলা থেকেই শিখেছি।” তবে, তিনি বুঝতে পেরেছেন, এটি একটি ভুল এবং বড় হয়ে তিনি তার পুরনো মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসেছেন। দুর্নীতি শুধুমাত্র সমাজের ভিতর থেকেই আসে, বাইরে থেকে এর সমাধান সম্ভব নয়। ঊষা বিশ্বাস করেন, যদি দেশের মানুষ নিজে সৎ না হন, তবে কোনও প্রক্রিয়াই সঠিকভাবে কাজ করবে না।

আরও পড়ুনঃ “বিপদ কেটেছে, তবে এখনও দুর্বল” শরীরে ছড়িয়েছিল মা’রাত্মক ইনফেকশন, অবশেষে খানিক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সুদীপ সরকার! চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে দ্রুত কাজে ফিরবেন অভিনেতা, আশ্বাস স্ত্রী অনিন্দিতার!

অবশেষে, দেশের সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং সমান অধিকার নিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে, ঊষা বলেন, শান্তি এবং ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন বা সমান অধিকার, তিনটিই একসাথে চলতে পারে, তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো দেশের শান্তি। আর ভাতা সম্পর্কিত প্রশ্নে, তিনি বলেছিলেন, “আমি ভাতা-র বিরুদ্ধে। এটি মানুষকে অলস করে তোলে।” তাঁর মতে, ভাতা বিতরণের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত, তবে সেই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মানুষের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত হতে হবে।

You cannot copy content of this page