আশা ভোঁসলের শেষ দিনগুলো কীভাবে কেটেছিল? মৃ’ত্যুর আগে কী বলেছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা? চিন্টু ভোঁসলের কথায় উঠে এল শেষে সময়ের বর্ণনা! নাতির মুখে শুনুন অজানা গল্প!

গত ১২ এপ্রিল ২০২৬, সুরের জগরের এক অপূরণীয় ক্ষতির দিন। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি তাঁর শেষ দিনগুলো কাটাচ্ছিলেন একেবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। দেশের গানপ্রেমীরা শোকস্তব্ধ হলেও, আশা ভোঁসলের নাতি চিন্টু ভোঁসলে জানালেন, তাঁর দাদির মৃত্যুর সময়টি ছিল শান্তি এবং অশ্রুপূর্ণ। তাঁর কথায়, “তাঁর মৃত্যুর সময় কোনো কষ্ট ছিল না, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ঘুমিয়ে চলে গেছেন।” আশা ভোঁসলে, জীবনের শেষ মুহূর্তেও যেন নিজের শর্তে চলে গিয়েছিলেন।

চিন্টু আরও জানান, আশা ভোঁসলে শেষ কয়েকদিনে সুস্থ থাকলেও শরীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। মৃত্যুর তিন-চার দিন আগে, তাদের মাঝে শেষ কথা হয়েছিল। সেই সময় তিনি আম খেতে খেতে বিশ্বরাজনীতির আলোচনা করছিলেন, যেমন ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েল সম্পর্কিত বিষয়ে। এই ঘটনা দেখায়, তিনি শেষ মুহূর্তেও খুব সচেতন এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ছিল, তিনি মৃত্যুর ঠিক আগের দিন একটি মারাঠি নাটক দেখেছিলেন এবং তিন ঘণ্টা ধরে সেটি উপভোগ করেছিলেন।

এছাড়াও, মৃত্যুর একদিন আগে, আশা ভোঁসলে আয়োজকদের বকুনিও দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, মঞ্চের গুরুত্ব নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।” এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তাঁর মধ্যে জীবনের প্রতি ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ছিল অনন্য। এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার আগে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, “আমাকে কিছুক্ষণ ঘুমাতে দাও।” এটা ছিল তাঁর সেই ধরণের শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী মনোভাব, যা তিনি সারাজীবন ধরে ধরে রেখেছিলেন।

এদিকে, তাঁর নাতনি জনাই ভোঁসলে, যিনি ছোটবেলা থেকেই আশা ভোঁসলের কাছে গান শিখেছিলেন, তাঁর প্রয়াণে খুবই মর্মাহত। চিন্টু জানান, “সবাই শোকাহত, তবে আমরা চেষ্টা করছি তাঁর জীবন উদযাপন করতে। প্রতি সন্ধ্যায় আমরা একসাথে বসে, আড্ডা দিচ্ছি এবং হাসাহাসি করে তাঁকে স্মরণ করছি।” আশা ভোঁসলে তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে যে এক অনবদ্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন, তা আজও তাঁদের জীবনে প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ এবার উত্তম কুমারের চরিত্রে অভিনয় করছেন তথাগত মুখোপাধ্যায়! ‘গুনগুন করে মহুয়া’ ছবিতে ফের পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠবেন মহানায়ক! দর্শকদের প্রত্যাশার ভার সামলে, উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং আবেগকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন কি অভিনেতা?

আশা ভোঁসলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল তাঁর দুটি সন্তানকে হারানো, যা একজন মা হিসেবে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। তবে তিনি সেই দুঃখকে শক্তিতে পরিণত করেছিলেন এবং কখনোই হাল ছাড়েননি। চিন্টু জানান, “তিনি সবসময় বলতেন, খারাপ সময় আসবেই, তবে সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়।” তাঁর জীবনযাত্রা, ধৈর্য, এবং সাহসের পরিচয়ই আজকের প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

You cannot copy content of this page