স্মার্টফোনের যুগেও কিপ্যাড ফোনে বেঁধে রেখেছেন জীবন! প্রযুক্তির যুগেও কেন পিছিয়ে থাকতে পছন্দ করেন সুদীপা বসু? জানুন তার যুক্তি!

বিভিন্ন ধারার অভিনয়ে সমান দক্ষতা নিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন সুদীপা বসু। চলচ্চিত্র থেকে টেলিভিশন, নাটক মঞ্চ সব জায়গাতেই তার উপস্থিতি অনুভূত। তবে তার জীবনযাত্রা বা কাজের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই আলাদা। এখনকার যুগে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সুদীপা বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছেন। তিনি একেবারে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, বরং কিপ্যাড ফোন ব্যবহার করে চলেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তেমন সক্রিয় নন তিনি।

তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুদীপা? সম্প্রতি এই বিষয়ে তিনি নিজের মতামত জানিয়েছেন। সুদীপা জানালেন, তার পেশার মধ্যে স্মার্টফোনের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি বলেন, “আমার কাজের জন্য স্মার্টফোনের কোনও দরকারি ফিচার আমি ব্যবহার করি না। প্রোডাকশন ম্যানেজার যদি ফোন করে ডাকেন, সেটা কিপ্যাড ফোনে করলেই চলে। কিংবা প্রয়োজনে ড্রাইভার বা বাড়ির লোকজনকে ফোন করতে পারি।” তার মতে, কিপ্যাড ফোন তার দৈনন্দিন কাজের জন্য পুরোপুরি যথেষ্ট।

তাই স্মার্টফোনের দিকে তিনি তাকান না। তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে স্মার্টফোনের মাধ্যমে কিছুও প্রয়োজন নেই।” এছাড়া, সুদীপা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় না থাকার পেছনেও তার একটি চিন্তাভাবনা রয়েছে। আজকালকার দিনে যেখানে প্রতিটি মানুষই সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকেন এবং পোস্ট করেন, সেখানে সুদীপা তার জীবনকে পুরোপুরি আলাদা রেখেছেন। তিনি জানালেন, “আমি জানার জন্য খবরের কাগজ পড়ি বা গল্পের বই পড়ি, সোশ্যাল মিডিয়াতে বসে সময় নষ্ট করতে আমার কোনও ইচ্ছা নেই।”

অভিনয়ের পাশাপাশি সুদীপা নিয়মিত গান ও নাচের চর্চা করেন। তাঁর দিনের অনেকটা সময় এসব শিল্পকলার সঙ্গে কাটে। তিনি বলেন, “আমি তো অভিনয়ের কাজের বাইরে গান বা নাচ নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখি, সিনেমা বা নাটক দেখা আমার পছন্দ।” তাঁর মতে, ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে নিজের সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। তাই তিনি নিজের মনোযোগ কেবল পেশা এবং নিজের শখের প্রতি রাখেন।

আরও পড়ুনঃ “ওটা বেডরুমে আছে” ফের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ঘিরে বিতর্কে ইমন চক্রবর্তী! নেটিজেনদের কটাক্ষের সপাটে জবাব, শিল্পী দিলেন সাহসী প্রতিক্রিয়া!

সবশেষে, সুদীপা তার জীবনযাপন এবং প্রযুক্তির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, “এখনকার পৃথিবীতে সবাই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু আমি চাই না প্রযুক্তি আমার জীবনে একটা অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়াক।” সুদীপা আরও বলেন, “নিজের কাজেই সুখী, এবং যেটা প্রয়োজন সেটা আমি আমার কিপ্যাড ফোন দিয়ে খুব সহজেই করে ফেলি।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান যুগের অনেক মানুষের কাছে নতুন ও আকর্ষণীয় বলে মনে হতে পারে।

You cannot copy content of this page