গায়িকা ইমন চক্রবর্তী সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন, চারপাশে সাজানো গাছের আলোয় ঝলমল করছে। ছবির ক্যাপশনে ছিল “বারান্দা”, যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি একান্তে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু, এই নিরীহ ছবির নিচে আসতে সময় লাগেনি রাজনৈতিক কাদা ছোড়ার। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, “তৃণমূলের দালালি করেই তো এই সুখ! দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আঁচলের তলায় থাকলে বারান্দাও স্বর্গ হয়ে যায়, তাই না?”
এরপর, অন্য একজন প্রশ্ন করেন, “বারান্দায় জোড়া ফুল,ফ্ল্যাগ, দিদির ছবি কই?” একে একে নানা কটাক্ষের মাধ্যমে গায়িকার শান্ত জীবনযাপনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। ইমন চক্রবর্তী বরাবরই নিজের জীবনের প্রতি খোলামেলা মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি কোনও বিষয়কে অগোছালোভাবে বা গোপন করে রাখেন না। তাই এসব মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেরি করেননি গায়িকা। সেই নেটিজেনদের জবাব দিয়ে ইমন লেখেন, “একদম, ওটা বেডরুমে আছে।”
এমন একটি সাহসী ও সোজাসাপ্টা উত্তর তাকে প্রশংসিত করেছে নেটিজেনদের মাঝে। অনেকেই তার এ ধরনের প্রতিবাদের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পেরেছেন এবং বলেছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক কটাক্ষ শিল্পীদের জন্য ন্যায্য নয়। একদিকে ইমন চক্রবর্তী পুরস্কৃত শিল্পী হিসেবে তার সংগীত জগতের সফলতা উপভোগ করছেন, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও অনেকের কাছেই পরিচিত। ছাত্রজীবনে তিনি সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলেন এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বও দিয়েছেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, আর এখন তিনি শুধুমাত্র তার শিল্পী পরিচয়ে থাকতে ভালোবাসেন। অতীতে শোনা গিয়েছিল, তিনি হয়তো তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন, তবে সেই গুঞ্জন এবার আর ছড়ায়নি। তবে কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য বা কটাক্ষ ইমনের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার শখের বিষয়ে মন্তব্য করা বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। বিশেষত, একজন শিল্পী যে তার খ্যাতি আর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে কিছু অর্জন করেছেন, তাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিতে বিচার করা কতটা সঠিক, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুনঃ “আমি বেঁচে আছি, সেই বেঁচে থাকাটাকেই দুর্বিষহ করে তুলেছে…” ৮৯ বছর বয়সেও গুজবের শিকার সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! কিংবদন্তির মৃ’ত্যুর ভুয়ো খবর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিনেত্রী, পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সরব অপরাজিতা!
ইমন নিজেই স্পষ্ট করেছেন, তার জীবন এবং সৃষ্টির জন্য তাকে একান্তভাবে বিচার করা উচিত, এবং যেকোনো রাজনৈতিক রঙ তাকে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া, যে ধরনের সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। তিনি বলেছেন, “উন্নয়নের পাঁচালি গাওয়ার আফসোস নেই।” বরং তিনি তার সঙ্গীত এবং শিল্পী পরিচয়ে মনোযোগী। তার এই অবস্থান অনেকেই প্রশংসা করছেন, এবং তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন।






“ওটা বেডরুমে আছে” ফের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ঘিরে বিতর্কে ইমন চক্রবর্তী! নেটিজেনদের কটাক্ষের সপাটে জবাব, শিল্পী দিলেন সাহসী প্রতিক্রিয়া!