পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এক নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র, যিনি সম্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক অপমানজনক এবং হেনস্থা শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে তাকে শুধু গালিগালাজ নয়, ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তার মা-ও এসব আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। রূপাঞ্জনার অভিযোগ, এমন হুমকি এবং হেনস্থা তো আর কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
এমন পরিস্থিতিতে, রূপাঞ্জনা মিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এবার পুলিশে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাইবার ক্রাইম শাখার কাছে তার এই অভিযোগ পৌঁছানোর পর পুলিশের তরফ থেকে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। রূপাঞ্জনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, যেসব দল নারী নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় সরব, তারা কীভাবে একজন নারীর বিরুদ্ধে এভাবে হেনস্থা ও অত্যাচার করতে পারে? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আপনারা না দাবি করেছিলেন, রাতের অন্ধকারে ক্ষমতা দখল করেছেন, আর আমি তো একজন নারী, তাহলে আমাকে এসব কীভাবে বলছেন?”
এছাড়া রূপাঞ্জনা বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আরো কঠোর প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। তিনি বলছেন, “আপনারা যাঁরা এসব কুৎসিত কথা বলছেন, তাঁদের নিজেদের পরিবারে নারীদের কতটা সম্মান দেওয়া হয়?” এর মাধ্যমে তিনি বিজেপির নারী সুরক্ষা নিয়ে দায়বদ্ধতার ওপরও প্রশ্ন তুলেছেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, “রাজ্যকে যদি উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা মণিপুরের মতো বানানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে দেখব কে কতটা শক্তিশালী!” রূপাঞ্জনার এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এরপর রূপাঞ্জনা মিত্র তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সাইবার ক্রাইম শাখায় দায়ের করা অভিযোগের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। তার এই পদক্ষেপে নেটিজেনরা তার পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল জুগিয়েছেন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে রূপাঞ্জনা শুধু তার ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না, বরং তিনি এই ধরনের হেনস্থার বিরুদ্ধে সারা সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চাইছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন আচরণ যেন অন্যদের জন্যও প্রেরণা হয়ে ওঠে, যাতে তারা নিজের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার মা-বাবাকে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে হয়েছিল…আমাকেও ওরা খুঁজত’ শৈশবের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন চন্দন সেন! কাদের হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল? কাদের প্রতিহিং’সার ব’লি হয়েছিল তাঁর পরিবার?
অভিনেত্রী এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে আরো কিছু কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বিশেষ করে গুজরাট গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। রূপাঞ্জনা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি রাজ্যে ত্রাস এবং বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং তিনি দাবি করেছেন যে, তার মতো কেউ যখন এই দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাকে শিকার হতে হয় এমন ধরনের আক্রমণের। যদিও তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে, তবে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন।






