‘আমার মা-বাবাকে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে হয়েছিল…আমাকেও ওরা খুঁজত’ শৈশবের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ফাঁস করলেন চন্দন সেন! কাদের হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল? কাদের প্রতিহিং’সার ব’লি হয়েছিল তাঁর পরিবার?

টলিউডের পরিচিত মুখ, বর্ষীয়ান অভিনেতা চন্দন সেন আবারও উঠে এলেন শিরোনামে। অভিনয় জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে। দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা তাঁর বক্তব্যে যেমন রয়েছে আবেগ, তেমনই রয়েছে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা ও সহকর্মী রাহুল-কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন চন্দন।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর জীবন মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁর পরিবারকে দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে হয়েছিল। তাঁর বাবা-মা বাধ্য হয়েছিলেন লুকিয়ে থাকতে, আর সেই সময় তিনি বড় হয়েছেন অন্যের বাড়িতে থেকে। চন্দনের কথায়, তখন এলাকায় প্রায়ই সেন্ট্রাল পুলিশ (Central Reserve Police Force) ঢুকে পড়ত এবং তাঁকে খুঁজত। কারণ, খবর ছিল যে তিনি ‘কিশলয় সেন ও সন্ধ্যা সেন’-এর ছেলে, যাদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল। সেই সময় নকশালপন্থী এবং কংগ্রেসপন্থীদের মধ্যেও তথ্য আদান-প্রদান চলত বলে দাবি করেন তিনি, যার ফলে তাঁর পরিবার বিপদের মুখে পড়েছিল।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির সেই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছিল তাঁর শৈশব ও মানসিক গঠনের উপর। তিনি বলেন, ছোট থেকেই ভয়, অনিশ্চয়তা এবং লুকিয়ে থাকার জীবন তাঁকে অন্যভাবে গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে সেই সময়কার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নকশাল আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সময় ভুল তথ্য বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নিরীহ মানুষকেও টার্গেট করা হতো।

এছাড়াও তিনি বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে ‘ব্যান কালচার’, শিল্পীদের প্রতি বৈষম্য এবং কাজের অনিশ্চয়তা নিয়ে তিনি সরব হন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, চেহারা বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে অনেক সময় যোগ্য অভিনেতাদের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালক শুধুমাত্র তাঁর চেহারার জন্য তাঁকে কাজ দেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “গৃহবধূরা কেন ম’দের গ্লাস হাতে নিতে পারবে না, খেতে পারবে না?” “একজন পুরুষ যা পারে, নারী কেন পারবে না?” নির্দিষ্ট ছকের মধ্যেই থাকতে হবে, আজও নারীদের জন্য কেন আলাদা নিয়ম? নারীদের জন্য সমাজের গড়ে দেওয়া নিয়ম নিয়ে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

সবশেষে, প্রয়াত সহকর্মী রাহুলকে স্মরণ করতে গিয়ে চন্দন সেন বলেন, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক সমর্থক ছিলেন না, ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান অভিনেতা ও লেখক। তাঁর চলে যাওয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, শিল্প জগতেরও বড় ক্ষতি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অযথা বিতর্ক না বাড়িয়ে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

You cannot copy content of this page