সম্প্রতি শুটিং চলাকালীন নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও তাজা, এমন পরিস্থিতিতে এক নতুন ধারাবাহিকে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু দৃশ্যের শুটিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ পরমব্রতের চরিত্র ‘সাগর’কে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যেতে দেখা যাবে। তবে, শুটিংয়ের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনা প্রথমে সবার মনেই সন্দেহ তৈরি করেছিল। তবে পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দৃশ্যটি সম্পূর্ণভাবে ক্যামেরার কারসাজিতে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো অভিনেতাকেই দুর্ঘটনায় অংশ নিতে হয়নি। পরমব্রত বা তার মা এবং শিশুশিল্পী, কেউই শুটিংয়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এই দৃশ্যে, সাগর তার মেয়ে মিঠি ও মাকে নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এই শটগুলো সম্পূর্ণভাবে সিআরএফ (স্টান্ট) মাস্টারদের তত্ত্বাবধানে, বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে শুট করা হয়। ফলে, অভিনেতাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
এমন পরিস্থিতিতে, প্রযোজক এবং পরিচালকরা শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল দর্শকদের মনে সাগরের মৃত্যু দৃশ্যটি গভীর ছাপ রেখে যেতে পারা। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া থেকেই প্রমাণ মিলেছে যে, সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। সাগরের মৃত্যুর দৃশ্যটিতে যেমন দর্শকদের কষ্টে পড়ে গেছেন, তেমনই ধারাবাহিকটির গল্পও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। এর পরেই, অভিনেতা-প্রযোজকরা একত্রিত হয়ে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো এবং অভিনেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এটি একটি বড় পদক্ষেপ, যাতে শিল্পীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয় এবং শুটিংও নির্বিঘ্নে চলতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ “বাবা তুমি ১০০ বছর বাঁচো, আশীর্বাদ করি…” বয়সের ভারে প্রায় ঝুঁকে পড়েছেন, তবু ‘ঘরের ছেলে’ দেবকে বুকে টেনে এক বৃদ্ধার হৃদয়স্পর্শী বার্তা! অসীম ভালোবাসার মুহূর্তের সাক্ষী হলেন জনসভার সবাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও!
তবে, সাগরের চরিত্রের মৃত্যু নিয়ে চিত্রনাট্য অনুযায়ী আরও কিছু পরিবর্তন আসবে। এখন, পরবর্তী পর্বগুলোতে সাগরের স্ত্রী পল্লবী, মিঠির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে। রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস জানিয়েছেন, পল্লবী কীভাবে একা হাতে মিঠিকে বড় করবে, সেই নিয়েই এগোবে গল্পের নতুন অধ্যায়। দর্শকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, পল্লবী কি সত্যিই একা মিঠিকে ভালোবাসা ও পরিচর্যা দিতে পারবে? এই বিষয়টি নিয়েই পরবর্তী কিছু পর্বে কাহিনির গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।






