টেলিভিশনের পর্দায় একসঙ্গে কাজ করতে করতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। কখনও মতের অমিল থেকে ছোটখাটো রাগ, কখনও আবার শুটিং ফ্লোরে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো থেকে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। দিনের পর দিন একসঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে সেই সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক ও মজবুত হয়ে ওঠে। আর সেই খুনসুটি, হাসি-মজা কিংবা ছোটখাটো ঝগড়ার ঝলক যখন পর্দার বাইরেও সামনে আসে, তখন তা দর্শকদের কাছেও বাড়তি আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনই সম্পর্কের সমীকরণ এখন দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘প্রতিজ্ঞা’-র দুই মুখ্য তারকা রণজয় বিষ্ণু ও অভীকা মালাকারের মধ্যে।
স্টার জলসার নতুন মেগা ‘প্রতিজ্ঞা’ শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। এই ধারাবাহিকে ব্যারিস্টার অভিমন্যু শঙ্কর রায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণজয় বিষ্ণু এবং ছুটির চরিত্রে দেখা যাচ্ছে অভীকা মালাকারকে। রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর প্রযোজনায় তৈরি এই ধারাবাহিকের গল্পে প্রেম, প্রতিশ্রুতি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই অভিমন্যু ও ছুটির জুটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
ধারাবাহিকের গল্পেও রয়েছে আবেগঘন মোড়। ছোটবেলার প্রেমিকা ছুটিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে নিজের পরিবারের অমত সত্ত্বেও বিয়ে করে অভিমন্যু। তারপর শুরু হয় তাদের একসঙ্গে নতুন পথচলা এবং জীবন সংগ্রামের গল্প। প্রেমের সম্পর্ক কীভাবে বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, সেই গল্পই তুলে ধরা হচ্ছে এই ধারাবাহিকে। আর পর্দার এই রসায়নের প্রভাব যে বাস্তবেও পড়েছে, তা স্পষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীর কথাতেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রণজয় ও অভীকাকে একসঙ্গে দেখা যায় বেশ হাসিখুশি মেজাজে। কথার ফাঁকে দু’জনেই স্বীকার করেন, শুটিং চলাকালীন তারা একে অপরকে প্রায়ই সাহায্য করেন। কোনও দৃশ্য নিয়ে সমস্যা হলে বা সংলাপ নিয়ে দ্বিধা থাকলে দু’জনেই পরস্পরের পাশে দাঁড়ান। এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই নাকি তাদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে এই সাহায্যের মাঝেই মজার ছলে উঠে এল অন্যরকম একটি অভিযোগ। অভীকা হাসতে হাসতেই জানান, রণজয়ের কারণে তাকে মাঝে মাঝেই “উচ্চতা নিয়ে অপমানিত” হতে হয়। অভিনেত্রীর কথায়, রণজয়ের লম্বা উচ্চতার পাশে দাঁড়ালে তাকে অনেকটাই খাটো দেখায়, আর সেই বিষয়টি নিয়ে মাঝেমধ্যেই মজার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও কথাগুলো পুরোপুরি মজার ছলেই বলা, তবু সেই খুনসুটি মুহূর্তেই সাক্ষাৎকারকে জমিয়ে তোলে।
আরও পড়ুনঃ “স্বেচ্ছায় বাবার ফোন নিয়ে বেপত্তা হয়ে, এখন বউ নিয়ে স্পেস চাইছেন” “এরা কি সমবেদনার উপযুক্ত? সামাজিক মাধ্যমটা কি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলার জায়গা?” ২৪ দিন পর, নিখোঁজ পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের স্বস্ত্রীক ছবি পোস্ট! ‘ইচ্ছাকৃত নয়’ সাফাই গাইতেই ধুয়ে দিল নেটপাড়া!
অন্যদিকে রণজয়ও বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে হাসির মধ্যেই কথোপকথন এগিয়ে নিয়ে যান। তাদের এই সহজ সম্পর্ক আর বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি দেখে স্পষ্ট, পর্দার বাইরেও দু’জনের বোঝাপড়া বেশ ভালো। আর সেই কারণেই হয়তো ‘প্রতিজ্ঞা’-র অভিমন্যু-ছুটির জুটি এত দ্রুত দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছে। এখন দেখার, পর্দার প্রেম আর বাস্তবের এই মিষ্টি বন্ধুত্ব আগামী দিনে দর্শকদের জন্য আর কত নতুন চমক নিয়ে আসে।






