আজ টলিউডের ‘টলি কুইন’ কোয়েল মল্লিকের জন্মদিন। বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী শুধু নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়েই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বরাবরই থেকেছেন বিতর্কের ঊর্ধ্বে। বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করা কোয়েলকে অনেকেই সবসময় একজন পারিবারিক, সংযত এবং মাটির মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। দীর্ঘ ২২ বছরের অভিনয় জীবনে তাঁর নামের পাশে কোনও বড় বিতর্ক বা কালো দাগ বসেনি কখনও। বরং নিজের পরিচ্ছন্ন ইমেজ, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার ঘরের মেয়ে। কিন্তু জন্মদিনের আবহেই তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুরাগীদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড়সড় হতাশা। যে অভিনেত্রীকে এতদিন শুধুই পর্দার রানি হিসেবে দেখেছে বাংলা, তাঁর রাজনীতির ময়দানে নামা অনেকের কাছেই যেন অপ্রত্যাশিত এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
বাংলা সিনেমার জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা অবশ্য নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বহু পরিচিত মুখ রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। দর্শকেরা সেই সিদ্ধান্তগুলো অনেকটাই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি যেন একটু আলাদা। কারণ, তাঁর প্রতি দর্শকদের আবেগ ও প্রত্যাশা বরাবরই অন্য মাত্রার ছিল। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে বেশি, আলোচনা হচ্ছে বেশি, আর হতাশার সুরও শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে।

এই বিতর্কের সূত্র আরও গভীরে গিয়ে পৌঁছেছে ফেব্রুয়ারি মাসের একটি ঘটনায়। তখন ভবানীপুরে রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে দেখা গিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সময় রঞ্জিত মল্লিক এবং অভিষেক দুজনেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর কোয়েল মল্লিকের তৃণমূলে যোগদান সামনে আসতেই অনেকের কাছে সেই ঘটনাকে নতুন করে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনুরাগীদের একাংশের দাবি, সবকিছুই আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল কি না, সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো।
আরও পড়ুন: নায়িকার দুঃখজনক পরিণতি! প্রথম ধারাবাহিকেই তাক লাগিয়েছিলেন সৌন্দর্য আর অভিনয়ে! রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেও, বাদ পড়লেন একাধিক বড় প্রকল্প থেকে! একসময় দাপট দেখানো অভিনেত্রীর এখন কী হাল?
অন্যদিকে, কোয়েলের সমর্থকদের একটা বড় অংশ বলছেন, একজন শিল্পীর রাজনীতিতে আসা মানেই ভুল সিদ্ধান্ত নয়। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। জনপ্রিয়তা থাকলে মানুষের সমস্যার কথা আরও বড় পরিসরে তোলা সম্ভব। কিন্তু সমালোচকদের যুক্তি, সেলিব্রিটি পরিচিতি ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়া অনেক সহজ, আর এর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা সুবিধাও জড়িয়ে থাকতে পারে। সিনেমার জগতে প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ, কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়া এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন বাংলা বিনোদন এবং রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কেউ এটিকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলছেন, কেউ বলছেন এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্ত তাঁর অনুরাগীদের মনে বড়সড় আলোড়ন তুলেছে। কেউ তাঁকে ঘৃণা করছেন না, কিন্তু অনেকেই হতাশ। এখন দেখার বিষয়, রাজনীতির ময়দানে কোয়েল মল্লিক নিজের নতুন পরিচয় কতটা সফলভাবে গড়ে তুলতে পারেন, আর তাঁর এই সিদ্ধান্ত সময়ের সঙ্গে সঠিক প্রমাণিত হয়, নাকি সত্যিই এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত হয়।






