“তোমরা মিথ্যাবাদী…এখন বুঝি তোমরাই আসলেই…” হাজার চেষ্টা করেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে একসঙ্গে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল সহজের! বিচ্ছেদ ভুলে বাবা-মায়ের মিলন, শেষমেশ নিয়তির খেলায় বাবাকে হারানোর যন্ত্রণায় তার পরিণত স্বীকারোক্তি! কোন মানসিক শক্তির জোরে, এই বয়সে ভয়ং’কর বাস্তবকে গ্রহণ করল সে?

২০২৬ সালের ২৯ মার্চ, ওডিশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে আচমকাই মৃত্যু হয় জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর। বাংলা বিনোদন জগতে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেমে আসে শোকের ছায়া। একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, লেখক এবং বহু মানুষের প্রিয় মুখকে এভাবে হারানো মানতে পারেননি কেউই। সহকর্মী থেকে ভক্ত, সবার কাছেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত কাছের মানুষ। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

এই আবহেই আবার নতুন করে সামনে এসেছে রাহুল এবং তাঁর ছেলে সহজ ব্যানার্জীর একটি পুরনো পডকাস্ট। সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। কারণ, সেখানে একেবারে ছোট্ট সহজ যেভাবে নিজের পরিবার, বাবা-মা এবং তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছে, তা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকেও ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে যখন রাহুল এবং অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সহজের মন্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায়।

পডকাস্টে সহজ জানিয়েছিল, সে খুব ছোট ছিল তখন, তাই পুরো বিষয়টা ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। তবে সে এটাও স্বীকার করেছে যে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছিল, যদিও তার স্পষ্ট স্মৃতি নেই। সে বলেছে, “আমার কিছু মনে নেই… কিন্তু কিছু একটা হয়েছিল, হয়তো কোনও রিয়্যাকশন ছিল।” এই সরল স্বীকারোক্তিই অনেক বড় কথা বলে দেয়। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একটি শিশু কীভাবে নিজের মতো করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তার এক বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে এই কথায়।

আরও অবাক করার বিষয়, ছোট্ট সহজ যেভাবে সেই সময়টাকে সামলেছিল, তা সত্যিই পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়। কোথাও সে অভিযোগ করেনি, কাউকে দোষ দেয়নি। বরং তার কথায় স্পষ্ট, সে পরিস্থিতিকে নিজের মতো করে গ্রহণ করেছিল। এমনকি পডকাস্টে সে জানায়, সে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায় শুধু “প্রিয়াঙ্কা সরকারের ছেলে” বা “রাহুল ব্যানার্জীর ছেলে” হিসেবে নয়, বরং “সহজ ব্যানার্জী” হিসেবেই পরিচিত হতে চায়। এছাড়াও সহজ জানিয়েছিল “তখন মনে হতো তোমরা মিথ্যাবাদী কিন্তু এখন বুঝি তোমরা আসলেই ভালো” এই ভাবনাই বোঝায়, খুব অল্প বয়সেই সে কতটা সচেতন এবং স্বনির্ভর চিন্তাধারার।

এই ভিডিও সামনে আসার পর অনেকেই বলছেন, একজন শিশুর উপর বাবা-মায়ের সম্পর্কের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তা এখানে পরিষ্কার। তবে একই সঙ্গে এটাও দেখা যাচ্ছে, সঠিক পরিবেশ এবং মানসিক শক্তি থাকলে একটি শিশু সেই কঠিন সময়কেও সামলে উঠতে পারে। সহজের কথায় কোথাও তিক্ততা নেই, বরং রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা এবং এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা, যা আজকের দিনে অনেক বড় শিক্ষা।

আরও পড়ুনঃ “যা ভয় দেখিয়েছি আর জীবনেও…” ভোট দিতে গিয়েই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা! বুথের ভেতরে ছোটপর্দার দুঁদে খলনায়িকার আচরণে অবাক সবাই! এ কী কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন অহনা দত্ত?

সবশেষে বলা যায়, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর মৃত্যুর পর তাঁর এই পডকাস্ট নতুন করে শুধু স্মৃতিই ফিরিয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক শিশুর মনের গভীর দিক। সহজের সরল কিন্তু পরিণত কথাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় সম্পর্কের জটিলতার মাঝেও মানবিকতা আর বোঝাপড়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কারণেই হয়তো আজও এই ভিডিও মানুষকে ছুঁয়ে যাচ্ছে, ভাবাচ্ছে এবং আবেগে ভাসাচ্ছে।

You cannot copy content of this page