“পকেটে টাকা ছিল না খাওয়ার মতো, ধর্মতলা চত্বরে দিনের পর দিন ঘুরেছি” শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ! জীবনের সেই কঠিন সময়ে কীভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? সহকর্মী নন, অভিভাবকে বহু বছর পর ‘সংসারের সংকীর্তন’-এ ফিরে পেয়ে কতটা উচ্ছ্বসিত তিনি?

বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় ও বহুমুখী অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায় আবারও দর্শকদের সামনে নতুন ধারাবাহিক ‘সংসারের সংকীর্তন’-এ এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে হাজির হয়েছেন। স্টার জলসার এই নতুন সিরিয়ালে তাঁকে দেখা যাচ্ছে মানালি দে এবং সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে, যেখানে একেবারে আলাদা ধরনের শ্বশুর–বৌমার সম্পর্কের গল্প উঠে আসছে। এই ধারাবাহিকে তিনি এক দাপুটে শ্বশুরের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

শুভাশিস মুখোপাধ্যায় টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৮৭ সালে ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ ছবির মাধ্যমে তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি মূলত কমেডি চরিত্রে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি প্রমাণ করেন যে শুধু হাস্যরস নয়, গুরুগম্ভীর ও জটিল চরিত্রেও তিনি সমান দক্ষ। ‘হারবার্ট’ কিংবা ‘মহালয়া’তে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। সাক্ষাৎকারে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় নিজের শুরুর দিকের সংগ্রামের দিনগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, কেরিয়ারের একেবারে শুরুতে যখন পকেটে টাকা থাকত না, তখন কাজের খোঁজে ধর্মতলা চত্বরে দিনের পর দিন ঘুরতেন। সেই কঠিন সময়েই অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে দাঁড়ান। শুভাশিসের কথায়, “পকেটে টাকা ছিল না, পরাণদা ডেকে খাওয়াতেন” এই ছোট্ট অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনের বড় সমর্থন হয়ে উঠেছিল। তিনি জানান, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে অনেক সময় দুপুরে বসে থাকতেন, সেখানেই শরবত বা অল্প খাবার ভাগ করে খাওয়ার মুহূর্তগুলো আজও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু সহকর্মী নন, তাঁর কাছে একজন শিক্ষক ও অভিভাবকের মতো ছিলেন, যিনি কঠিন সময়ে সাহস ও ভরসা জুগিয়েছেন।

অভিনেতা আরও জানান, আগেকার দিনে টেলিভিশন সিরিয়ালের শুটিং সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে হতো। তখন সাপ্তাহিক এপিসোড তৈরি হতো এবং একটি পর্ব শুট করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগত। কাজের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা ছিল, ফলে চরিত্র বুঝে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে দিনে ১০ থেকে ১৪টি সিন শুট করতে হয়, একসঙ্গে একাধিক এপিসোডের অংশ মিশিয়ে শুটিং হয়। এতে অনেক সময় গল্পের ধারাবাহিকতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে আধুনিক কাজের গতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই সবাই কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ “ভদ্র সভ্য সমাজ গড়তে হবে…” বাংলায় নতুন সরকার গঠনের আগেই কড়া বার্তা মমতা শঙ্করের! সমাজের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ! শালীনতা থেকে শাসন, কী কী চাইছেন নতুন প্রশাসনের কাছে? কী জানালেন শিল্পী?

বর্তমান টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন নিয়ে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, এখন অনেক কনটেন্টই দ্রুত তৈরি হচ্ছে এবং সাহিত্যের ভিত্তি কিছুটা কমে গেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শক সবসময় ভালো কনটেন্ট গ্রহণ করেন, যদি তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাঁর মতে, দর্শক কখনও শুধু একটি ধরণের ছবি বা সিরিয়াল দেখেন না, বরং ভালো গল্প পেলেই গ্রহণ করেন। ‘সংসারের সংকীর্তন’-এর মতো নতুন ধরনের গল্প দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে বলেও তিনি আশাবাদী। শেষপর্যন্ত তিনি জানান, এই ধারাবাহিক শুধু বিনোদন নয়, সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক আবেগের এক সুন্দর মেলবন্ধন, যা দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

You cannot copy content of this page