“আমি তিনবার ডুবতে ডুবতে বেঁচেছি, কিভাবে যে মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরেছি…” তালসারিতে রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর পর, একই জায়গা নিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শোনালেন অপরাজিতা আঢ্য!

তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর গোটা বাংলা বিনোদন জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। ২৯ মার্চ স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রের জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনার পর শুটিং স্পটের নিরাপত্তা, পরিকল্পনা এবং দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক এই সময়েই নিজের পুরনো অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তিনি জানান, তালসারির সেই একই এলাকায় তিনিও একাধিকবার বিপদের মুখে পড়েছিলেন। অভিনেত্রীর দাবি, তিনবার তিনি ডুবতে ডুবতে প্রাণে বেঁচেছেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ওই জায়গার ঝুঁকি।

এক সাক্ষাৎকারে অপরাজিতা বলেন, এমন দুর্ঘটনা না ঘটলে অনেক সময় কেউ সতর্ক হয় না। তাঁর কথায়, তালসারির সেই অঞ্চল দেখতে যত সুন্দর, বাস্তবে ততটাই বিপজ্জনক হতে পারে। প্রথমবার তিনি সেখানে যান মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বেড়াতে। তখনই প্রথমবার জলে সমস্যায় পড়েন। যদিও সেই সময় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। পরে কাজের সূত্রে আরও দু’বার তালসারিতে যেতে হয় তাঁকে। আর সেই দুই সফরেও একই রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বলে জানান অভিনেত্রী।

অপরাজিতা আরও বলেন, একবার শুটিং করতে গিয়ে জল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই কাজের সময়ই তাঁর ভবিষ্যৎ স্বামীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছিল বলে জানান তিনি। শুটিং চলছিল নদী ও সমুদ্রের সংযোগ এলাকার কাছে। আলো ভালো থাকায় দ্রুত দৃশ্য ধারণের চেষ্টা চলছিল। ইউনিট থেকে তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে নৌকায় ওঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সময় তাঁর মা-ও সঙ্গে ছিলেন। পরিস্থিতি যে কতটা কঠিন হয়ে উঠেছিল, তা এখনও মনে আছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, বিকেলের দিকে ওই এলাকায় জলের উচ্চতা খুব দ্রুত বদলে যায়। কিছু সময় আগে যেখানে জল পায়ের নিচে থাকে, অল্প সময়ের মধ্যেই তা গলা পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। এই পরিবর্তন অনেকের আন্দাজের বাইরে থাকে। আবার সেই সময়ের আলোয় শুটিং করলে দৃশ্য খুব সুন্দর আসে, তাই অনেকে ঝুঁকি নিয়েও কাজ করেন। তবে এখন ড্রোন ক্যামেরায় শুটিংয়ের জন্য অনেক জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। ফলে কেউ বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। অভিনেত্রীর মতে, এই কারণেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

আরও পড়ুন: “অনেকেই ভাবেন আমি হয়তো…” স্ত্রী পায়েল দে-এর সঙ্গে দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন, প্রায় ছয় মাস পর্দা থেকে দূরে দ্বৈপায়ন দাস! অবশেষে ধারাবাহিকে ফিরতেই, অভিনেতা জানালেন কোন কারণ?

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি সামনে আসেনি। পরিচালক, প্রযোজক এবং ইউনিটের বিভিন্ন সদস্যের বক্তব্যে মিল না থাকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। এদিকে প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং আর্টিস্ট ফোরামের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে তালসারির সেই দুর্ঘটনা এখনো বাংলা টেলিভিশন দুনিয়ার এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রয়েছে।

You cannot copy content of this page