বর্তমান সময়ে সম্পর্ক ভাঙনের সংখ্যা কেন বাড়ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা সামনে আনলেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তাঁর মতে, সমাজ বদলেছে, নারীদের অবস্থান বদলেছে, আর সেই কারণেই বিয়ে ও সম্পর্কের ছবিটাও আজ অনেক আলাদা। একসময় মেয়েদের জীবন অনেকটাই সংসারনির্ভর ছিল, কিন্তু এখন তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শিখেছে। সেই বদলের প্রভাব পড়ছে দাম্পত্য জীবনেও। একই সঙ্গে তিনি জানান, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দু’পক্ষের ধৈর্য, বোঝাপড়া এবং সম্মান খুবই জরুরি।
নিজের ২৬ বছরের বিবাহিত জীবনকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি এই প্রসঙ্গেই বিস্তারিত মত প্রকাশ করেছেন। শতাব্দী রায়ের কথায়, আগে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেত। তখন অনেকেরই নিজের মতামত জানানোর মতো মানসিক প্রস্তুতি থাকত না। পাশাপাশি বেশিরভাগ নারী আর্থিকভাবে স্বনির্ভরও ছিলেন না। ফলে সংসারই ছিল তাঁদের প্রধান ভরসা। অভিনেত্রীর ভাষায়, “নারীরা উপার্জন করত না, তাই অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করেছে।” অর্থাৎ সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা থাকলেও তা মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি।
কারণ আলাদা হয়ে নতুনভাবে বাঁচার সাহস বা সুযোগ দুই-ই সীমিত ছিল। এখনকার প্রজন্মের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেবারেই অন্যরকম বলে মনে করেন তিনি। আজকের নারীরা পড়াশোনা করছেন, কাজ করছেন, নিজের উপার্জন রয়েছে, এবং অনেক বেশি পরিণত বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে তাঁরা সম্পর্কের মধ্যে নিজের সম্মান, স্বাধীনতা এবং মানসিক শান্তিকেও সমান গুরুত্ব দেন। শতাব্দী বলেন, “এখন নারী পরিণতমনস্ক হওয়ার পর বিয়ে করছে, উপার্জনও করছে।” তাই সম্পর্ক যদি অসুস্থ হয়ে ওঠে তখন?
এমনটা হলে শুধু সমাজের ভয়ে সেটাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতা অনেকটাই কমেছে। অভিনেত্রীর মতে, এই স্বাধীন মানসিকতার কারণেই আজ অনেকে আপসের বদলে নিজের ভালো থাকার পথ বেছে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “দাম্পত্যের ঝক্কি পোহানোর চেয়ে স্বাধীন জীবন কাটাতে বেশি ভালবাসছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সংজ্ঞাটাই বদলে গেছে। আগে সহ্য করাকে গুণ মনে করা হত, এখন নিজের মর্যাদা রক্ষা করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই বিচ্ছেদ বাড়লেও সেটাকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ সাত মাস ধরে ভাঙা দুই পা নিয়েই চলছে লড়াই! ২৪ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গুরুতর জ’খম লাইটম্যান সুকান্ত! কীভাবে চলছে তাঁর সংসার? পাশে কি দাঁড়ালেন ইন্ডাস্ট্রির কেউ? টলিউডের ঝলমলে আলোর আড়ালে শিল্পীদের জীবনের দাম এতটাই কম? নিরাপত্তাহীনতায় যাবে আর কত প্রাণ? রাহুলের মৃ’ত্যুর পরেও উঠছে প্রশ্ন!
নিজের সংসারের প্রসঙ্গ টেনে শতাব্দী রায় জানান, দীর্ঘ সম্পর্কে মতভেদ, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সময় সঙ্গীর ভালো দিকগুলোর কথা মনে রাখা জরুরি। তাঁর কথায়, “খারাপ সময়ে যদি সঙ্গীর ভালটুকু দেখার চেষ্টা করা যায়, তা হলে সম্পর্ক টিকে যায়।” স্বামী মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২৬ বছরের দাম্পত্য জীবনকে তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ফল বলেই মনে করেন। বদলে যাওয়া সমাজের মাঝেও তাই তাঁর বার্তা, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সম্মান ও সহমর্মিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।






