“নায়ক-নায়িকাদের প্রার্থী বানিয়ে বলছেন, ওদের নয় আমাকে দেখে আপনারা ভোট দিন” বামপন্থায় এটা সম্ভব নয়! মৃ’ত্যুর কয়েক দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মতাদর্শের বিরোধিতায় সরব রাহুল অরুণোদয়! তৃণমূলের ‘তারকা-কেন্দ্রিক’ স্ট্র্যাটেজিকে নিশাকিনা করে কী বলেন অভিনেতা?

বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, বরং একজন স্পষ্টভাষী এবং সচেতন নাগরিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ২৯ মার্চ ২০২৬-এ তাঁর অকাল প্রয়াণে ইন্ডাস্ট্রি যেমন শোকস্তব্ধ হয়, তেমনই তাঁর জীবনদর্শন ও মতাদর্শ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক বিষয় নিয়ে সরব ভূমিকা এখন আবারও উঠে আসছে জনচর্চায়।

রাজনৈতিক দিক থেকে রাহুল নিজেকে বারবার তাঁর মতাদর্শের মাধ্যমে স্পষ্টভাবেই বুঝিয়েছেন তিনি বামপন্থী। তিনি বহুবার প্রকাশ্যে শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। সমাজে বৈষম্য, অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়। এই কারণেই তাঁকে অনেকেই একজন “প্রতিবাদী কণ্ঠ” হিসেবে দেখতেন, যিনি জনপ্রিয়তার তোয়াক্কা না করেই নিজের মত প্রকাশ করতেন।

শুধু রাজনীতি নয়, সমাজের বিভিন্ন ইস্যুতেও রাহুল ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের উপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় নেমেছিলেন এবং মিছিলে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি রাস্তায় নামার সাহস তাঁর মধ্যে ছিল, যা আজকের দিনে খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।

তাঁর মৃত্যুর আগে করা একটি ভিডিও বর্তমানে আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে বিধানসভা ভোটের আবহে। সেই ভিডিওতে রাহুল এক বক্তব্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জি একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেন, “যেটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন নায়ক-নায়িকাদের পাশে নিয়ে ওদেরকে নিয়ে চিন্তা করবেন না, আমাকে দেখে ভোট দিন, সব সিটই তো আমি… এটা কোনোদিন বামপন্থায় বলা সম্ভব?” এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বা তারকাখ্যাতিকে ব্যবহার করা বামপন্থী আদর্শের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ “আগে কম বয়সে বিয়ে হলেও সব চুপচাপ সহ্য করেছে, সংসার টিকিয়ে রাখাটাই ছিল প্রাধান্য” “এখন পড়াশোনা করে পরিণত বয়সে বিয়ে, উপার্জনের জোরে সম্পর্ক ভাঙতেও ভয় পায় না” নারীরা মতামত জানাচ্ছে, নিজের জীবনকে আগে ভাবছে! বিয়ের পর কয়েক মাসেই বিচ্ছেদ কেন, সোজাসাপ্টা উত্তর শতাব্দী রায়ের?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বাংলা বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই বাস্তবতাকেই যেন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, তিনি রাজনীতিতে আদর্শ ও নীতির গুরুত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতেন, যেখানে ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বা গ্ল্যামার নয়, বরং মানুষের স্বার্থই হওয়া উচিত প্রধান বিষয়। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থানই আজ তাঁর মৃত্যুর পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এবং নতুন করে ভাবাচ্ছে অনেককেই।

You cannot copy content of this page