“সন্তানকে বড় করা মানে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা তহবিল বা বার্ধক্যের বীমা নয়” বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিজের পায়ে দাঁড় করানো, দেখভালের দায় কেন নেবে ছেলেমেয়েরা? সন্তানের উপর নির্ভরতার ধারণা ভাঙলেন অঞ্জন দত্ত! প্রচলিত পারিবারিক মানসিকতার বিরুদ্ধে, নিজের ছেলের উদাহরণ টেনে কী বললেন অভিনেতা?

প্রায় এক বছর পর আবার বড়পর্দায় ফিরেছেন অভিনেতা, পরিচালক ও গায়ক অঞ্জন দত্ত। মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’। ছবির বিষয়বস্তু যেমন পরিবার, সম্পর্ক ও জীবনের টানাপড়েনকে ঘিরে, তেমনই প্রচারে এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বললেন তিনি। কর্মব্যস্ত জীবন, পরিবার, সন্তানকে নিয়ে বর্তমান সমাজে যে নানা প্রশ্ন উঠছে, তার উত্তর দিতে গিয়ে অঞ্জন দত্তের বক্তব্য ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সন্তানদের উপর নির্ভরতা নিয়ে তাঁর সোজাসাপ্টা মত অনেকের নজর কেড়েছে।

নতুন ছবিতে কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর প্রসঙ্গ রয়েছে। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অঞ্জন দত্ত স্পষ্ট বলেন, “দুই দিক সামলানো একেবারেই সম্ভব। এটা খুব কঠিন, এমন ধারণা সব সময় ঠিক নয়।” তাঁর মতে, অনেক মানুষ বাস্তব জীবনেই সফলভাবে কাজ ও সংসার দুটোই সামলে চলেন। কে কীভাবে নিজের জীবন গুছিয়ে নিচ্ছেন, তার উপরেই অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি আরও জানান, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়ে যায়।

‘প্রত্যাবর্তন’ ছবিতে পুরুলিয়ার এক স্কুলশিক্ষকের ছেলে কলকাতায় সফল মানুষ হয়ে ওঠে, কিন্তু বাবার সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সূত্রেই অঞ্জন দত্তের নিজের ছেলে নীলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উত্তরে তিনি বলেন, “আমি কোনও দিন নীলকে এই ভেবে বড় করিনি যে বয়স হলে ও আমাকে দেখবে।” তাঁর মতে, সন্তানকে বড় করার পিছনে ভবিষ্যতে নিজের সুবিধার হিসেব রাখা উচিত নয়। বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করা আর প্রত্যাশা তৈরি করা, এই দুই জিনিস এক নয় বলেই মনে করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত পরিচালক মৃণাল সেনের উদাহরণও টানেন। অঞ্জন দত্ত বলেন, “কুণাল ওঁকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু মৃণালদা থাকতে পারেননি। ফিরে এসেছিলেন।” এই উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চান, বয়স বাড়লেই সন্তানদের কাছে গিয়ে থাকা বা তাদের জীবনেই মিশে যাওয়া সব সময় সবার পক্ষে স্বস্তির হয় না। অনেক সময় নিজের জায়গা, নিজের অভ্যাস, নিজের স্বাধীনতা মানুষকে বেশি টানে। তাই প্রত্যেকের জীবন আলাদা, সিদ্ধান্তও আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: “নায়ক-নায়িকাদের প্রার্থী বানিয়ে বলছেন, ওদের নয় আমাকে দেখে আপনারা ভোট দিন” বামপন্থায় এটা সম্ভব নয়! মৃ’ত্যুর কয়েক দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মতাদর্শের বিরোধিতায় সরব রাহুল অরুণোদয়! তৃণমূলের ‘তারকা-কেন্দ্রিক’ স্ট্র্যাটেজিকে নিশাকিনা করে কী বলেন অভিনেতা?

বর্তমান সময়ে অনেক বাবা-মা মনে করেন সন্তানরা সারাজীবন তাঁদের সঙ্গেই থাকবে। এই ভাবনাকে ভুল বলেই মনে করেন অঞ্জন দত্ত। তাঁর কথায়, “যত দিন আছি নিজের মতো থাকব। নীল পরে কী করবে, সেটা ওর ব্যাপার।” তিনি আরও বলেন, সন্তান বড় হয়ে দায়িত্ব নেবে, এই আশা তিনি কোনও দিন করেননি। বরং নিজের জীবন নিজের মতো করে কাটানোই তাঁর বিশ্বাস। নতুন ছবির গল্পের বাইরে বাস্তব জীবন নিয়েও অঞ্জন দত্তের এই স্পষ্ট বক্তব্য এখন দর্শকমহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page