“ম’রার আগে দুবার ভাবব না, আর মা’রার আগে একবারও ভাবব না!” সাংবাদিক থেকে সুপার ড্যাড, নতুন অবতারে মন জিততে আসছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়! বড় পর্দায় কবে মুক্তি পাচ্ছে ‘বাবা’? বিপরীতে নায়িকা কে?

আসন্ন ফাদার্স ডে উপলক্ষে আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি বাবা। আবেগ, সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ এবং দুর্দান্ত অ্যাকশনের মিশেলে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল। ছবির পরিচালক জিৎ চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং প্রতিটি বাবার মনের গভীর অনুভূতির প্রতিচ্ছবি। ছবির ট্যাগলাইন “সন্তানের জন্য মরার আগে দুবার ভাবব না, আর মারার আগে একবারও ভাবব না” ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। পরিচালক হিসেবে এটি তাঁর পঞ্চম কাজ হলেও প্রযোজক হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ছবি, তাই এই প্রজেক্ট তাঁর কাছে আরও বেশি আবেগের।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র গৌরব, একজন তরুণ সাংবাদিক, যার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পৃথিবীর সেরা বাবা হওয়া। অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া গৌরব ছোটবেলার বন্ধু রাইকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। পরে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হলে গৌরবের জীবন যেন নতুন অর্থ খুঁজে পায়। তবে সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত সুরক্ষাবোধ ধীরে ধীরে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে। একদিকে পরিবারকে আগলে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে নিজের পেশাগত দায়িত্ব, এই দুইয়ের দ্বন্দ্বই ছবির গল্পকে আরও বাস্তব এবং আবেগঘন করে তুলেছে। পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।

গল্পে শুধুমাত্র পারিবারিক আবেগ নয়, রয়েছে সমাজের এক ভয়ংকর অন্ধকার দিকও। সাংবাদিক গৌরব জড়িয়ে পড়ে কলকাতার শিশু পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এক বিপজ্জনক লড়াইয়ে। সত্য উদঘাটনের জন্য তাঁর এই সংগ্রাম ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গে মিশে যায়। সন্তানের নিরাপত্তা, সমাজের প্রতি দায়িত্ব এবং মানবিকতার প্রশ্ন ছবির প্রতিটি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিচালক এই ছবির মাধ্যমে রাস্তার শিশুদের দুর্দশা এবং সংগঠিত ট্র্যাফিকিংয়ের নির্মম বাস্তবকেও তুলে ধরেছেন। ফলে এটি শুধু বিনোদনের ছবি নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তাও বহন করবে।

ছবিতে অভিনয় করেছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্য, মমতা শঙ্কর, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বনাথ বসু সহ আরও অনেকে। প্রতিটি চরিত্রের মধ্যেই রয়েছে আলাদা আবেগ এবং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নির্মাতাদের দাবি, দর্শক এই ছবিতে একসঙ্গে পাবেন রোম্যান্স, পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা, হাস্যরস এবং টানটান অ্যাকশন। ছবির ভিজ্যুয়াল এবং আবহ সংগীতও দর্শকদের মনে বিশেষ ছাপ ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বড় পর্দায় এটি হতে চলেছে এক সম্পূর্ণ পারিবারিক বিনোদনের অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুনঃ “জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাতেই বুঝেছি, কে কতটা আপন” স্বামী রাহুলের অকালমৃ’ত্যুই চিনিয়ে দিল মুখোশ পরা মানুষদের! বিপদের সময়ে কারা ছিলেন পাশে? কারা নীরবে শক্তি জুগিয়েছেন, কারাই বা দূরে সরে গেছেন? ‘কাছের মানুষ’দের নিয়ে অকপট প্রিয়াঙ্কা সরকার!

ফাদার্স ডে উপলক্ষে মুক্তি পাওয়ায় ছবিটি দর্শকদের কাছে আরও বেশি আবেগঘন হয়ে উঠতে চলেছে। একজন বাবার ভালোবাসা, ত্যাগ এবং সন্তানের জন্য তাঁর সীমাহীন লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গল্প সহজেই বহু মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। পরিচালক নতুন প্রযোজক হিসেবে দর্শকদের ভালোবাসা এবং ভরসাকেই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন। আগামী ১৯ জুন মুক্তির পর বাবা কতটা দর্শকের মন জয় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। তবে ট্রেলার এবং গল্পের ঝলক ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ফাদার্স ডে তে বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এটি হতে চলেছে এক বিশেষ উপহার।

You cannot copy content of this page