“ঘেন্না করে আমার, ওদের নাম মুখে আনতেও!” “যোগ্যতাহীন হয়েও টাকা কামাতেই সব রাজনীতিতে ঢুকে নিজেদের বিধাতা মনে করে, আজকের দুর্নামের জন্য ওরাই দায়ী” গৌরবান্বিত ইন্ডাস্ট্রিটাকে পায়ের তলায় নামিয়ে দিল, ক্ষো’ভে ফেটে পড়লেন লাবনী সরকার! তৃণমূল তারকা প্রার্থীদের তোপ দেগে কী বললেন তিনি?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) পরাজিত হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো বিনোদন জগতেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তৃণমূলের প্রভাব ও আধিপত্য নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, অসংখ্য শিল্পীকে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা গিয়েছে, আর সেই কারণেই ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। সরকার বদলের পর সেই চাপা ক্ষোভ ও অভিযোগ যেন এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

এই আবহেই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী লাবনী সরকার (Laboni Sarkar)। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে বহু জনপ্রিয় কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিজের কেরিয়ারের পুরো সময়জুড়ে তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হননি। বরাবরই অভিনয়কেই নিজের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। লাবনীর দাবি, শিল্পের জায়গা শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ঢুকে পড়লে শিল্পের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে লাবনী সরকার সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূল আমলে যেসব অভিনেতা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের ‘শেষ কথা’ বলে ভাবতেন। তাঁর কথায়, কে কত পারিশ্রমিক পান, কারা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান আর কারা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে সুযোগ পান এসব তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের, লাবনীর মতে, প্রসেনজিৎ কখনও রাজনীতিতে যুক্ত না হয়ে নিজের কাজ এবং ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভালো শিল্পী হতে গেলে বা ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করতে গেলে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কোনও বাধ্যতামূলক বিষয় নয়।

যদিও কাউকে সরাসরি আক্রমণ না করলেও, তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল বলে মনে করছেন অনেকে। টলিউডের কিছু প্রভাবশালী তারকা, যেমন দেব, সোহম চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, রাজ চক্রবর্তী, কোয়েল মল্লিক-সহ আরও কয়েকজনের দিকে পরোক্ষভাবে আঙুল তুলেছেন তিনি। লাবনীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে আধিপত্য বিস্তার করা হয়েছে এবং এক ধরনের ‘মাফিয়া কালচার’ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছু নির্দিষ্ট মানুষের হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অনেকেই এখন সাহস করে মুখ খুলতে পারছেন।

আরও পড়ুনঃ “পুরো এলাকাই উত্তপ্ত, আমাদের বাড়ি দেবদাসপল্লিতে” চন্দ্রনাথ রথ খু’নের কাণ্ডে অশান্ত মধ্যমগ্রাম! জ্বর নিয়েই শুটিংয়ে রণজয়, তবে পরিবারের অবস্থা কেমন? কঠিন সময়ে আপনজনের নিরাপত্তা নিয়ে কী জানালেন অভিনেতা?

লাবনী সরকার সরাসরি কারণ নামের ইঙ্গিত না করেই আরো অভিযোগ তুলে আনেন, শিল্প সমাজের মানুষ যখন রাজনীতিতে যান এবং পরে সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে শিল্পের জগতে ব্যবহার করে আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করেন, তখন তা ঘৃণার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাঁর দাবি, এই কারণেই সাধারণ মানুষের চোখে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সম্মান অনেকটাই কমে গেছে। যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এক সময় মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেত, আজ সেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ও ক্ষমতার লড়াই শিল্পের মর্যাদাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page