রাজ্যে ভোট-পুজো মিতেই, এবার পালা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের। আজ যথারীতি মাধ্যমিক ২০২৬-এর ফল প্রকাশ হতেই আলোচনায় উঠে এলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আরাত্রিকা সিনহা! ‘সারেগামাপা’ খ্যাত এই ‘খুদে কমরেড’ এবার জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। শুক্রবার ৯ মে রাজ্য জুড়ে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে নিজের ফল জানালেন তিনিও। সংগীত জগতের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও যে তিনি সমানভাবে মনোযোগী, তা আবার প্রমাণ করলেন!
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজের প্রাপ্ত নম্বর জানান আরাত্রিকা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন “501”, যা থেকেই তাঁর মোট নম্বরের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই পোস্ট ঘিরে মুহূর্তেই অনুরাগীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৭১.৫৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রথম বিভাগে পাশ করেছেন তিনি। ফল প্রকাশের পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায় আরাত্রিকার সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। অনেকেই তাঁর পরিশ্রম ও একাগ্রতার প্রশংসা করেন। একজন অনুরাগী লেখেন, “শুভেচ্ছা! খুব ভালো হয়েছে।অনেক বড় হয়ে ওঠ।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। খুব ভালো থাকিস। তোর গান ও পড়াশোনা দুটোতেই সেরা হয়ে ওঠ বাবু।” অন্য একজন লেখেন, “অভিনন্দন ও অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকুক।” একজন অনুরাগী আবার লেখেন, “শুভেচ্ছা রইল। আগামী এক্সামগুলো আরও ভালো করতে হবে, তার সাথে অবশ্যই সঙ্গীতকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। “এই মন্তব্যগুলিতে ভরে ওঠে তাঁর কমেন্ট বক্স। এক কথায়, সবাই তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন আরাত্রিকা।
তবে তিনি চূড়ান্ত ট্রফি জিততে না পারলেও চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। সেই সময় তিনি পান ‘কালিকাপ্রসাদ সম্মান’। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। প্রতিযোগিতার কারণে কিছু সময় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছিল তাঁর। তবে পরিবার কখনও তাঁকে চাপ দেয়নি বরং গান ও পড়াশোনা দুটোতেই উৎসাহ দিয়েছে। তিনি জানান, জীবনের রুটিনে ফেরাটা কিছুটা কঠিন হয়েছিল, তবে ধীরে ধীরে সামলে নিয়েছেন। গানের রেওয়াজ ও পড়াশোনা দুটোই তিনি সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে আরাত্রিকা নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “ফাইনলের পর (সারেগামাপা-র) বাড়ি এসে, আমি তো গভীর চিন্তায় চলে যাচ্ছিলাম এবারে কীভাবে সামাল দেব। একটা বিশাল বড় ডিস্ট্র্যাকশন হয়ে গিয়েছিল। আবার সেই রুটিনে ফিরে আসা। এই স্কুল যাওয়া, টিউশন যাওয়া। পুরনো অভ্যেস আয়ত্তে আনতে কিছুটা তো সময় লাগছে। তবে আসতে আসতে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। তবে অবশ্যই, গানের রেওয়াজ আমি করছি। করবও। আর আমার বাড়িতে অন্তত কখনো এরকম হবে না যে, সবাই বলবে ‘তোর তো মাধ্যমিক আসছে, রেওয়াজ একটু ছাড়। পড়াশোনায় মন দে।’ এসব কখনো ওঁরা বলবে না। আমার মাথাতেও আসবে না।
আরও পড়ুনঃ “ঘেন্না করে আমার, ওদের নাম মুখে আনতেও!” “যোগ্যতাহীন হয়েও টাকা কামাতেই সব রাজনীতিতে ঢুকে নিজেদের বিধাতা মনে করে, আজকের দুর্নামের জন্য ওরাই দায়ী” গৌরবান্বিত ইন্ডাস্ট্রিটাকে পায়ের তলায় নামিয়ে দিল, ক্ষো’ভে ফেটে পড়লেন লাবনী সরকার! তৃণমূল তারকা প্রার্থীদের তোপ দেগে কী বললেন তিনি?
গান আর পড়শোনা, দুটোই সমানতালে সামলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দুই দিকই সমান গুরুত্ব দেন তিনি। সংগীত ও পড়াশোনা মিলিয়ে এগোতে চান ভবিষ্যতের দিকে। ইতিমধ্যেই একটি বাংলা সিনেমায় প্লেব্যাকও করেছেন। কম বয়সেই সংগীত জগতে তাঁর দারুণ পরিচিতি তৈরি হয়েছে। মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর তাঁকে ঘিরে নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। সফলতার এই যাত্রায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। পড়াশোনা ও গানের ভারসাম্য রেখে এগোনোই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে তাঁকে দেখার আশায় থাকলাম আমারও। টলি গসিপের তরফ থেকে অনেক শুভকামনা গায়িকার জন্য।






