“বাংলা বিনোদন জগৎ থেকে সবার আগে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বন্ধ করা হবে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে জায়গা পাবে শিল্প”, ক্ষমতায় এসেই বড় প্রতিশ্রুতি অভিনেত্রী-নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন নতুন সরকারকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। প্রশাসন থেকে সাংগঠনিক স্তর সব ক্ষেত্রেই এখন বাড়ছে দায়িত্বের চাপ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের জীবনেই নয়, রাজ্যের সাংস্কৃতিক এবং বিনোদন জগতেও পড়তে শুরু করেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

শুধু রাজ্যবাসীর কাছেই নয়, টলিউডের অন্দরেও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই চাপা বিতর্ক ছিল। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে বাংলা বিনোদন জগতে। কারা কাজ পাবেন, কারা পাবেন না তা নিয়েও বহু সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ‘ব্যান সংস্কৃতি’, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শিল্পীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া বা কাজ না পাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই আবহেই এবার মুখ খুললেন বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এক সময় বাংলা সিনেমা এবং ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ ছিলেন লকেট। অভিনয় জগতেই তাঁর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে ২০১৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতেই বেশি মন দেন তিনি। ২০১৬ সালে ‘কিরীটি রায়’ ছবির পর আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। এরপর বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন। গত এক দশক ধরে কার্যত অভিনয় থেকে দূরেই রয়েছেন লকেট। তবে সম্প্রতি বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর আমন্ত্রণে ‘আখরি সওয়াল’ ছবির প্রচারে উপস্থিত হওয়ার পর থেকেই ফের তাঁর অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

সেই অনুষ্ঠানেই লকেটকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলা ছবি কি তাঁকে আবার ফিরে পাবে? উত্তরে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। লকেট জানান, এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলের কাজ এবং নতুন দায়িত্ব সামলানো। তাঁর কথায়, বিজেপি এখন আর শুধুমাত্র বিরোধী দল নয়, পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও এখন দলের কাঁধে। তাই প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই অভিনয় নিয়ে ভাবার মতো সময়ই তাঁর হাতে নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

তবে শুধু নিজের অভিনয় নয়, টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন লকেট। তিনি বলেন, বাংলা বিনোদন জগৎ থেকে সবার আগে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বন্ধ করা দরকার। কোনও শিল্পীকে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কাজ থেকে দূরে রাখা উচিত নয় বলেও মত তাঁর। লকেটের দাবি, শিল্পীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ইতিমধ্যেই টলিউডের দায়িত্বে বিজেপির তরফে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখদের সামনে আনা হয়েছে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিজেপিও কি এবার টলিউডে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে? যদিও সেই প্রশ্নের উত্তরে লকেট আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও শিল্পীর কাজ কেড়ে নেওয়া হবে না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ কখনও কাজ পাওয়ার মাপকাঠি হবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘ওর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় আর কেউ হতে পারে না’, শুভেন্দুকে নিয়ে বড় মন্তব্য মিঠুন চক্রবর্তীর! বিজেপির বঙ্গ বিজয়ে আপ্লুত মহাগুরু

এছাড়াও ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর কথায়। লকেট জানান, বিষয়টি তাঁদের কানে এসেছে এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি মহিলাদের স্বাধীনতা নিয়ে যে নানা আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেটাকেও সরাসরি উড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপি কখনও কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। বিশেষ করে মহিলাদের পোশাক, পেশা বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনও বাধা তৈরি করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য এখন নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

You cannot copy content of this page