‘আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে কুকর্ম করেছি!’ ‘মহাদেবের লিঙ্গে কন’ডম পরিয়ে খিল্লি করেছিলেন’ রাত ২টোর লাইভে সায়নী ঘোষকে নিশানা জিতু কমলের, পাশে প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস! তবে কি বিতর্কের মাঝেই আবার কাছাকাছি আসছে দু’জনে? জোড়া লাগছে সম্পর্ক?

টলিপাড়ার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন অভিনেতা জিতু কমল। গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সরাসরি আক্রমণ করলেন সাংসদ সায়নী ঘোষকে। কারণ, সায়নী দাবি করেছিলেন যে নবনীতা নাকি জিতুর কিছু ‘কুকীর্তি’ নিয়ে তাঁকে ফোন করেছিলেন। সেই অভিযোগের জবাব দিতেই বহুদিন পর একসঙ্গে লাইভে দেখা গেল জিতু ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতাকে। সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে লাইভের জায়গা নির্বাচন নিয়ে। কোনও ঘরোয়া পরিবেশ নয়, বরং কেন্দুয়া শান্তিসংঘের পুজোমণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে লাইভ করেন জিতু। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পুজোরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার সায়নী ঘোষ। ফলে গোটা ঘটনাকে অনেকেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বার্তার মিশেল হিসেবেই দেখছেন।

লাইভ চলাকালীন জিতু ও নবনীতাকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই কথা বলতে দেখা যায়। এমনকি মাঝেমধ্যে দুজনের মধ্যে পুরনো দিনের খুনসুটিও চোখে পড়ে। লাইভে দেখা যায়, নবনীতার হাত থেকে কুলফি নিয়ে খাচ্ছেন জিতু। সেই মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনুরাগীদের একাংশের মতে, এই দৃশ্যই বুঝিয়ে দিয়েছে যে বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক নেই। বরং দুজনেই একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছেন। জিতুদের এই একসঙ্গে আসা অনেককেই অবাক করেছে। কারণ ডিভোর্সের পর এই প্রথমবার কোনও সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেল। অনেকের মতে, সায়নীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতেই এই পরিকল্পনা করেছিলেন অভিনেতা।

লাইভে জিতু সরাসরি বলেন, “ঘোষ মহাশয়া (সায়নী ঘোষ) দাবি করেছেন যে আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে দিনের পর দিন কুকর্ম করেছি!” এই মন্তব্যের পরই তিনি রাজনীতির ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর কথায়, “বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই একটা নোংরা ট্রেন্ড আছে, কেউ ডিভোর্স করলেই একজন অন্যজনকে নিয়ে খোঁচা মারো, কাদা ছেটাও।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণকে তিনি সমর্থন করেন না। নবনীতাও লাইভে স্পষ্ট জানান যে, সায়নীর বলা কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তিনি কখনও জিতুর বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ করেননি বলেই জানান। ফলে দুজনের বক্তব্যেই পরিষ্কার হয়ে যায়, সায়নীর দাবি তাঁরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন।

জিতুর দাবি, সায়নী ঘোষ বারবার এমন মন্তব্য করছেন যা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছেন না। অভিনেতার কথায়, “সায়নী মিথ্যে বলতে বলতে এমন জায়গায় পৌঁছে গেছেন যেখানে মানুষ আর তাঁকে বিশ্বাস করে না।” সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সামাজিক বার্তাও দিতে চান বলে উল্লেখ করেন। জিতুর ভাষায়, “আমরা এই নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজকে দেখিয়ে দেব যে, ডিভোর্স হওয়ার পরেও আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়।” তাঁর এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক পাল্টা প্রচার বলেও ব্যাখ্যা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ আচমকা হাসপাতালে ভর্তি ‘বুব্লাই’ ভিভান ঘোষ! মুখে অক্সিজেনের নল, হয়েছে অস্ত্রোপচার! ‘চিরসখা’ বন্ধ হওয়ার পর ভোটে তৃণমূল হারতেই গুরুতর অসুস্থ, কী হয়েছে অভিনেতার?

এই লাইভের পর টলিপাড়ার অন্দরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জিতু, নবনীতা ও সায়নীকে ঘিরে। জিতুর সমর্থকদের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব তিনি খুব কৌশলে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনও সরাসরি বিতর্কে না গিয়ে প্রাক্তন স্ত্রীকে পাশে নিয়েই তিনি পুরো বিষয়টির উত্তর দিয়েছেন। কেন্দুয়া শান্তিসংঘের সামনে দাঁড়িয়ে এই লাইভ করাও অনেকের চোখে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সেই পুজোর সঙ্গে সায়নীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে নিছক ফেসবুক লাইভ হিসেবে দেখছেন না অনেকে। রাতের সেই কুলফি খাওয়া, হাসিঠাট্টা ও একসঙ্গে বক্তব্য রাখা এখন টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এবার এই ঘটনার পর সায়নী ঘোষ কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে।

You cannot copy content of this page