ভাঙা অনুভূতি, অস্থির মন আর গভীর আত্মসংঘর্ষের এক তীব্র গল্প নিয়ে মুক্তি পেল মিউজিক ভিডিও ‘আয়না’। পরিচালক রাতুল মুখার্জির এই কাজটি বাংলা মিউজিক ভিডিওর প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একেবারে নতুন ভিজ্যুয়াল ভাষা তৈরি করেছে। এখানে গানের পাশাপাশি উঠে এসেছে মানুষের মনের অন্ধকার দিক, যেখানে বাস্তব আর অবাস্তবের সীমারেখা বারবার ভেঙে যায়। শিল্পী শিলাজিৎ ও অভিনেত্রী সুমনা দাস এই প্রজেক্টে নিজেদের এক অন্য রূপে তুলে ধরেছেন, যা দর্শকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে।
এই গানের জন্মের গল্পটিও ভীষণ ব্যক্তিগত এবং গভীর। শিলাজিৎ জানিয়েছেন, এটি কোনও পরিকল্পিত সৃষ্টি নয়, বরং জীবনের এক কঠিন মানসিক সময় থেকেই এর শুরু। সেই সময় তাঁর কাছে চারপাশের সবকিছু অবাস্তব মনে হচ্ছিল, এমনকি নিজের অস্তিত্বও। ঠিক তখনই তিনটি শব্দ, ভাঙা কাঁচ, অন্ধকার ঘর, ভাঙা হৃদয়, তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। এই অনুভূতি থেকেই আইফোন এবং গ্যারেজব্যান্ড ব্যবহার করে এক রাতেই তৈরি হয় ‘আয়না’ গানটির প্রথম রূপ।
পরিচালক রাতুল মুখার্জি এই প্রজেক্টটিকে শুধুমাত্র একটি মিউজিক ভিডিও হিসেবে দেখেন না, বরং এটি তাঁর কাছে একান্ত ব্যক্তিগত সৃজনযাত্রা। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলা দর্শক এমন ধরনের ভিজ্যুয়াল স্টাইল খুব কমই দেখেছেন। সিনেমাটোগ্রাফার রোহান পল এবং সম্পাদক ঈশানের কাজ এই ভিডিওকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি নিজে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে নতুন এবং উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, যা পুরো প্রজেক্টটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
অভিনেত্রী সুমনা দাস এই ভিডিওতে একেবারে আলাদা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি জানান, এর আগে কখনও এই ধরনের র্যাপ ঘরানার মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেননি। নতুন কনসেপ্ট এবং পরিচালকের ভিশনই তাঁকে এই কাজে আকৃষ্ট করেছে। শুটিংয়ের সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং পর্দায় তার উপস্থাপনা একেবারে ভিন্ন, যা তাঁকে নিজের অভিনয়কে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে এবং সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করেছে।
আরও পড়ুনঃ জি বাংলায় নয় এবার জলসায় নতুন মেগা নিয়ে ফিরছেন আদৃত রায়! বিপরীতে দারুণ জনপ্রিয় নায়িকা!
ভিডিওটির সামগ্রিক ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে সৌমাল্য মল্লিকের কালার গ্রেডিং। আলো ছায়া এবং মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম ব্যবহার ‘আয়না’কে আরও গভীর করে তুলেছে। মুক্তির পর থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই কাজটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নির্মাতাদের আশা, নতুন প্রজন্ম এই পরীক্ষামূলক উপস্থাপনা এবং মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলার ধরনকে গ্রহণ করবে এবং এটি একটি আলাদা ধরণের অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে রাখবে।






