দীর্ঘদিন পর আবার কলকাতায় শুটিং করতে দেখা গেল অভিনেত্রী রিয়া সেনকে। উত্তর কলকাতায় অনুপ দাসের নতুন ছবি ‘রেখা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। সাদা টপ, জিন্স আর রাজকীয় উপস্থিতিতে আগের মতোই নজর কাড়েন অভিনেত্রী। অনেকদিন বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকার কারণ জানতে চাইলে রিয়া জানান, তিনি বেশ কিছুদিন আমেরিকায় ছিলেন। সেখানে মডেলিংয়ের পাশাপাশি ময়াঙ্ক শর্মার একটি সিরিজ়ের কাজও করেছেন। অভিনেত্রী বলেন, “আমেরিকায় ছিলাম। মডেলিং করলাম। ময়াঙ্ক শর্মার একটি সিরিজ়ের শুটিং চলছে সেখানে। সেই কাজ করে এলাম।” একই সঙ্গে তিনি জানান, হলিউডেও কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে কলকাতায় ফিরে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে টলিউডেও বদলের হাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় রিয়াকে। অভিনেত্রী বলেন, “বদল আসা উচিত। ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই বদল খুবই জরুরি।” তাঁর মতে, সবার আগে বন্ধ হওয়া দরকার ‘ব্যান’ সংস্কৃতি। রিয়া স্পষ্ট বলেন, সবাই যাতে কাজের সুযোগ পান, সেই পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “দেখুন, আমি তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে কোনও সুবিধা নিইনি, বিজেপি-র থেকেও কোনও সুবিধা নেব না। আমার উপলব্ধি, এ সবে ব্যস্ত না থেকে সবার মন দিয়ে কাজ করা উচিত।” অভিনেত্রীর মতে, বাইরের রাজ্য বা দেশের শিল্পীরাও যেন কলকাতায় এসে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন। সেই জায়গা থেকেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মানসিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
অভিনেতা এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন রিয়া সেন। তিনি মনে করেন, কলকাতায় সংস্কৃতি, সিনেমা এবং রাজনীতি বরাবরই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থেকেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার মনে হয়, অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেক মিলও রয়েছে। নানা দিক থেকে, সব অভিনেতাই রাজনীতিবিদ এবং সব রাজনীতিবিদই অভিনেতা।” তবে ব্যক্তিগত ভাবে তিনি রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হতে চান না বলেও জানান। নিজের কাজের উপরই বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তন এলে নতুন শক্তি ও নতুন ভাবনা আসবে বলেও মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সৃজনশীল ক্ষেত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে বদল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও শোনা যায় রিয়ার গলায়। তিনি মনে করেন, পরিচালকরা এখনও তাঁর উপর পুরো ভরসা করতে পারেন না। অভিনেত্রী বলেন, “কোনও পরিচালক ভরসাই করতে পারেন না। আমিও যে ভাল চরিত্র পেলে নিজেকে উজাড় করে দিতে পারি, সেই ভরসা তো আমার উপরে রাখতে হবে। ঋতুপর্ণ ঘোষ রেখেছিলেন। তাই তাঁর ছবি ‘আবহমান’-এ আমার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।” একই সঙ্গে দিদি রাইমা সেনও প্রাপ্য সম্মান পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। রিয়া জানান, “নেপোটিজ়ম” নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে এখন “গ্রুপিজ়ম” বেশি চলছে। তাঁর কথায়, “আপনারা জানেন না, ‘নেপোটিজ়ম’ নয়, সর্বত্র ‘গ্রুপিজ়ম’ চলছে। বাইরে থেকে লোক আসছেন। তাঁরা দল বানাচ্ছেন। সেই দলের লোকেরাই মুঠোভর্তি কাজ পাচ্ছেন।”
আরও পড়ুনঃ ‘মাথা কে’টে আনলে ১ কোটি পুরস্কার!’ সায়নী ঘোষের মাথা কা’টার ফতোয়া জারি! “এটাই কি আপনাদের নারী শক্তি বন্দন?” দেশজুড়ে ভাইরাল ভিডিও, সরব তৃণমূল সাংসদ!
আলোচনায় উঠে আসে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনাও। এই বিষয়ে রিয়া বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, জন্ম এবং মৃত্যু দুটোই আমাদের ভাগ্যে লেখা থাকে।” তবে তিনি এটাও মনে করেন, টলিউডে শৃঙ্খলা এবং সময় ব্যবস্থাপনার কিছু অভাব রয়েছে। অভিনেত্রী জানান, সেই জায়গায় আরও পেশাদার হওয়া দরকার। নিজের কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রিয়া বলেন, জীবনে ভাল এবং খারাপ দুই সময়ই দেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিদেশে অভিনেতা এবং মডেল হিসেবে কাজ করার সুবাদে আমি খারাপ সময়গুলোকে মেনে নিতে, তার থেকে শিক্ষা নিতে এবং ভাল সময়গুলোকে পুরোপুরি উপভোগ করতে শিখে গিয়েছি।” এখন তিনি বিশ্বাস করেন, অতীত আঁকড়ে না থেকে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






