সায়নীর মাথার দাম ১ কোটির পর, এবার প্রাণনা’শের হু’মকি পেলেন সোহম চক্রবর্তী! বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই আত’ঙ্কে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক? কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিনেতা?

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই দলের একাধিক তারকা প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। কেউ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, কেউ আবার হারের পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এর মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল প্রাক্তন বিধায়ক ও অভিনেতা ‘সোহম চক্রবর্তী’র (Soham Chakraborty) বক্তব্যে। আজ সকালে সোহম দাবি করেছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর জীবন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিনেতার অভিযোগ, তাঁকে প্রা’ণনাশের হু’মকি দেওয়া হয়েছে!

এই ঘটনার জেরে ফের সামনে উঠে এসেছে কয়েক বছর আগের সেই আর্থিক লেনদেন বিতর্ক, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। ভোটের আগে ওঠা সেই অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে একটি সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই ছবির জন্য প্রযোজকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন সোহম বলে অভিযোগ। পরে ছবিটি আর তৈরি হয়নি। অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম দাবি করেছিলেন, প্রায় এক কোটি টাকার চুক্তির মধ্যে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা অভিনেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিনেমার কাজ শুরু না হওয়ায় সেই টাকা ফেরত চাওয়া হয়।

অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও পুরো টাকা ফেরত মেলেনি। এই বিষয়টি নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন শাহিদ। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা হলেও কোনও সমাধান হয়নি বলেই জানা যায়। সেই মামলাই এখন নতুন করে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে আলোচনায় উঠে এসেছে। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে সোহম জানিয়েছেন, গতকাল সেই প্রযোজক তাঁর কাছে টাকা ফেরত চাইতে আসেন। অভিনেতার দাবি, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই মুহূর্তে টাকা ফেরত দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ছবির জন্য ডেট দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি। সোহমের কথায়, রাতের দিকে তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়।

অভিনেতার অভিযোগ, ফোনে তাঁকে বলা হয়, “এখন সরকার বদলের পর, সোহমকে সমস্যায় পড়তে হবে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের সঙ্গে এই হুমকির যোগ রয়েছে বলেই তাঁর সন্দেহ। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশের দাবি, ভোটের আগে ওঠা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ এখন আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

আরও পড়ুনঃ “পুরনো দিনের অভিনেতারা আমাকে হ্যাটা করত…চোখের জল বের করে দিয়েছিল” টলিউডের ‘অদৃশ্য ব্যান কালচার’ নিয়ে বি’স্ফোরক অনামিকা সাহা! সামনে আনলেন, সৌমিত্র ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের মতো ক্ষমতাশালীদের দ্বারা পুরনো অপমানের স্মৃতি!

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আগের মতোই দাবি করা হয়েছে, গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, পুরনো একটি আর্থিক বিবাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে সামনে এনে প্রাক্তন বিধায়কের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, আদালতেই এই বিষয়ে সত্য সামনে আসবে। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম অতীতে একটি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং প্রায় দু’বছর জেলেও ছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ফের সোহমের কাছে টাকা দাবি করেন বলে জানা গিয়েছে।

You cannot copy content of this page