বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে একের পর এক তৃণমূল নেতার নাম সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় নতুন নাম, বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি ‘দেবরাজ চক্রবর্তী’র (Debraj Chakraborty) নাম। তিনি সংগীতশিল্পী ‘অদিতি মুন্সি’র (Aditi Munshi) স্বামী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মঙ্গলবার রাত থেকেই সমাজমাধ্যমে দেবরাজের গ্রেফতারি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজের প্রকাশ্যে না আসা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ৪ মে’র পর থেকে নাকি দেবরাজের কোনও খোঁজ মিলছিল না।
এরপর মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হতে শুরু করে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি পোস্টে লেখেন, “পাপ বিদায়”। সেই পোস্ট ঘিরেই জল্পনা আরও বাড়ে। এরপরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়, সত্যিই কি গ্রেফতার হয়েছেন দেবরাজ? যদিও পরে তরুণজ্যোতি দাবি করেন, দেবরাজ নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের পরেও বিতর্ক থামেনি। সূত্র মারফত খবর, দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছিল। বুধবার সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানা যাচ্ছে।
যদিও আইনী জটিলতায় তাঁর নাম জড়ানোয় স্বাভাবিক ভাবেই চাপ বেড়েছে তৃণমূলের উপর। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সংবাদ মাধ্যমের তরফে অদিতি মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “একজন স্ত্রী হিসেবে আমি জেলে যেতেও রাজি আছি আমার স্বামীর সঙ্গে, যদি ওরা যে অভিযোগ করছে সেটা প্রমাণ করতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কেউ লিখেছেন, “আপনি মহাভারতের গান্ধারীর অভিনয়টা ভালই জানেন। গান্ধারী যেমন চোখ থাকতে অন্ধ ছিলেন।”
আবার আরেকজন কটাক্ষ করে বলেন, “মনস্কামনা পূর্ণ হোক, জেলে গিয়ে দুজনে কীর্তনটা ভালো করে করবেন কিন্তু অবশ্যই।” অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অদিতির এই প্রতিক্রিয়া আদৌ কতটা গ্রহণযোগ্য। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে আরও একাধিক কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। একজন লেখেন, “বর যদি স্বনামধন্য চোর হয় কি করা যাবে? জেলে গিয়ে কুঞ্জো সাজাবেন, কেমন?” আবার অন্য এক নেটিজেনের মন্তব্য, “গান করে জানতাম নাটক করে জানতাম না।
আরও পড়ুনঃ ‘এখন দেখি সবেতেই ছেঁড়া, আগে জানতাম শুধু কষ্টের চিহ্ন ছিল’ না খেতে পেয়েও যেখানে ছিল, বেশি খেতে পেয়েও সেখানেই! সফলতার পর কি দুঃখের গল্পকে ফ্যাশনে বদলে দিচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম? ট্রেন্ড ও সমাজের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কী বললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তনিমা সেন?
টাকাগুলো কোথা থেকে এসেছিল তখন মনে ছিল না। তোমার স্বামী কি করে তুমি জানতে না?” এই ধরনের মন্তব্যে স্পষ্ট, অদিতির বক্তব্যের পর ক্ষোভ আরও বেড়েছে নেটমাধ্যমে। যদিও এখনও পর্যন্ত দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবু রাজনৈতিক চাপানউতোর, সমাজ মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া এবং তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি মিলিয়ে গোটা ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।






