পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব! ভেঙে গেল ইমপার পুরনো কমিটি! জোর করে হটানো হল পুরনো সভাপতিকে! নির্বাচনের পর নতুন কমিটিতে সেক্রেটারি পদে বসলেন কে?

সরকার বদলের পর থেকেই ইমপাকে ঘিরে টলিপাড়ায় শুরু হয়েছিল নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। কিছুদিন আগেই কয়েকজন সদস্য ইমপা অফিসে ঢুকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর ঘটনাও ঘটান। সেই সময় থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়, সংগঠনের ভিতরে বড়সড় মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২২ মে বিশেষ বৈঠক ও ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদস্যদের ডাকা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য। তবে বৈঠকের দিন সকাল থেকেই ইমপা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের অন্দরের দ্বন্দ্ব তখন প্রকাশ্যে চলে আসে।

এদিন মিটিং শুরু হওয়ার আগেই নতুন করে গোলমালের অভিযোগ ওঠে। সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত দাবি করেন, যাঁরা ইমপার সদস্য নন, এমন কিছু মানুষও ভিতরে ঢুকে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রবল আপত্তি জানান। এমনকি সিঁড়ি দিয়ে নেমে থানায় যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। যদিও পরে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফের বৈঠকে যোগ দেন। এর পর শুরু হয় ভোটপর্ব। তবে এদিন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হয়নি, উপস্থিত সদস্যদের মৌখিক মতামত নেওয়া হয়। সেখানে বেশিরভাগ সদস্য পিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বলেই জানা গিয়েছে। ফলে সংগঠনের ভিতরে চাপা অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দিনের শেষে ইমপায় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদস্যদের মতের ভিত্তিতে পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নতুন নিয়মও পাশ করা হয়েছে বলে খবর। নতুন কমিটিতে সেক্রেটারি পদে রতন সাহার নাম নির্বাচন করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর ইমপার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন পিয়া সেনগুপ্ত। সূত্রের খবর, তিনি এই নতুন কমিটির বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটার কথাও ভাবছেন। ফলে বিতর্ক যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে নতুন কমিটির তরফে শতদীপ সাহা জানিয়েছেন, খুব দ্রুত নিয়ম মেনে নির্বাচন করা হবে। তাঁর দাবি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আগামী দিনে ইমপা পরিচালিত হবে। সংগঠনের ভিতরের সমস্যাগুলো মিটিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করার কথাও বলেন তিনি। তবে ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ইমপা চত্বরে দল বেঁধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলতে থাকে। কে কোন দায়িত্বে থাকবেন এবং আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে, তা নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে ইমপার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নতুন কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুনঃ ‘হিংস্র’ ও ‘পাগল’ কুকুরদের মে’রে ফেলো! ক্ষোভ শ্রীলেখা মিত্রের, ‘অমানবিক’ দাবি তথাগত মুখোপাধ্যায়েরও!

প্রসঙ্গত, টলিপাড়ায় ছবি মুক্তির সময়সূচি ঠিক করতে ইমপা হাউজের একটি বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। বিশেষ করে ছুটির মরসুমে কোন ছবি কবে মুক্তি পাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছিল এই কমিটির উপর। শোনা যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানেই এই কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেখানে স্বরূপ বিশ্বাস থেকে পিয়া সেনগুপ্ত, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তবে বর্তমানে সেই কমিটি আর আগের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। ফলে টলিউডের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page