সুরেন্দ্রনাথ কলেজে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একাধিক সামগ্রী ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষামহলেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে প্রথমে উদ্ধার হয় উইপোকায় নষ্ট হয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলেজের ভিতরে দু’টি বেডরুমের খোঁজ মেলে বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেটও। এই ঘটনাগুলি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্র শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বেডরুমগুলি তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবু এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতেন। আরও অভিযোগ, ওই ঘরগুলিতে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হত। ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন পরিকাঠামো থাকার অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে একাংশের মধ্যে। ঘটনার সত্যতা নিয়ে তদন্ত ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এই ঘটনার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি সমাজ মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “কেউ ভেবেছিল কোনও রাজনৈতিক দল এত রোম্যান্টিক হতে পারে? স্কুল থেকে কলেজ, হাসপাতাল থেকে ক্লাবঘর সর্বত্রই রোম্যান্সের ব্যবস্থা।” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। অনেকেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে।
এদিকে শহরের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী শিলাজিৎ মজুমদার। সেখানে সাংবাদিকরা তাঁর কাছে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। প্রথমে কলেজে এসি রুম থাকার কথা শুনে তিনি প্রশংসা করেন। পরে যখন তাঁকে বেডরুম এবং অন্যান্য উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রসঙ্গ জানানো হয়, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে যান। কিছুটা মজার ছলেই শিলাজিৎ বলেন, “ভালো তো, বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা আছে।” পুরো বিষয়টি শোনার পর কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি স্পষ্টতই হতবাক হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি ‘সুরুচির অরূপদা’কে ভাইফোঁটা দিয়েছি, অরূপ বিশ্বাস আমাকে বোনের মতো দেখেন’ বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বড় মন্তব্য অপরাজিতার! ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’দের অনুষ্ঠানের নিয়মিত মুখ, আজ স্বরূপ বিতর্কে সরব! কেন নিজেকে কাঠগড়ায় দেখতে নারাজ তিনি?
পরিস্থিতি সামলে পরে শিলাজিৎ নিজের মতামত প্রকাশ করেন ব্যঙ্গের সুরে। তিনি বলেন, “খুব সিকিওরড কলেজ। প্রগেসিভ কলেজ, কন্ডোম যখন পাওয়া যাচ্ছে তখন তো সেফটি-সিকিওরিটির বিষয়ে খুবই সচেতন।” তাঁর এই মন্তব্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।






