“মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলেই যদি কাজ মিলত, শতাব্দী রায় হতেন টলিউডের সব ছবির নায়িকা” মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন অপরাজিতা আঢ্য! নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ওঠাবসা প্রসঙ্গে কী তথ্য ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

অরূপ বিশ্বাসকে ‘ভাইফোঁটা’ দেওয়ার পুরনো ছবি ও ভিডিও ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সম্প্রতি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার পর পুরনো ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানগুলির ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সব ভিডিওর মন্তব্য বিভাগে অভিনেত্রীদের উদ্দেশে কটূক্তি ও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে একটি ভিডিওবার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অপরাজিতা। তিনি বলেন, “সবাই কাজের লোভে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে সাংসদ শতাব্দী রায় সব ছবির নায়িকা হতেন। কারণ, দীর্ঘ অনেকগুলো বছর ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।” তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আমন্ত্রণ রক্ষা করা আর ব্যক্তিগত স্বার্থে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এক বিষয় নয়। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য না করেই অনেকেই মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্কের আবহে সমাজমাধ্যমে ভাইফোঁটার পুরনো মুহূর্তগুলি ভাইরাল হওয়ার পর অভিনেত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি সৌজন্যবোধের শিক্ষা পেয়েছেন এবং সেই কারণেই আমন্ত্রণ পেলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়াকে তিনি ভদ্রতার অংশ বলেই মনে করেন। তাঁর কথায়, “আমরা বাড়ির বড়দের থেকে সৌজন্যবোধ শিখেছি। সেই সৌজন্যবোধের কারণেই স্কুলে বকুনি খেলে ছোটদের ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানাতে শেখাব না আমরা। একই ভাবে সমাজের উপরতলার ব্যক্তিত্বরা আমাদের আমন্ত্রণ জানালে, আমরা সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করি ছোটবেলায় শেখা সৌজন্যবোধ থেকেই।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অতীতে বিভিন্ন মঞ্চে নেতামন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্যের সময় কেউ ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করেননি কেন? তাঁর মতে, বর্তমানে সমাজে সৌজন্যবোধের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

অপরাজিতা উদাহরণ হিসেবে বিজয়া দশমীর বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক বছর ধরে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে বিখ্যাত শাস্ত্রীয়সঙ্গীত শিল্পী রাশিদ খান, ঊষা উথুপ থেকে দিক্‌পাল সঙ্গীতজ্ঞ, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং অভিনেতারাও যেতেন। তাঁদের নতুন করে কী পাওয়ার আছে? কিসের লোভে যেতেন তাঁরা? কোনও লোভ নয়, সম্মান জানিয়ে উপস্থিত থাকতেন সবাই।” অভিনেত্রীর মতে, কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করা রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ নয়, বরং সামাজিক সৌজন্যের অংশ। সেই কারণেই তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর কোনও মন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটাই ভদ্রতা বা সৌজন্যবোধ।” পাশাপাশি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যও তুলে ধরে তিনি বলেন, মতের অমিল থাকলেও ন্যূনতম ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি।

নিজের পেশাগত জীবন নিয়েও এদিন খোলামেলা কথা বলেন অপরাজিতা। বর্তমানে তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘দাদা’ ছবিতে নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তবে তিনি জানান, এর আগে দীর্ঘ ছয় মাস তাঁর হাতে কোনও কাজ ছিল না। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, “তার আগে ছ’মাস বসে ছিলাম। কাজ ছিল না। কই, কেউ খোঁজ করেননি তো! মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে তো আমার বসে থাকার কথা নয়!” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে টলিউডের ‘ব্যান’ সংস্কৃতি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি, অথচ ছোট ছোট ক্লিপ ভাইরাল করে তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ রাতারাতি চেহারা পরিবর্তন, চোখে-মুখে হারের ছাপ স্পষ্ট! মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নিয়মিত রূপচর্চা, ক্ষমতা হারাতেই কি ইতি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মেকওভার’ ঘিরে জল্পনায় মুখ খুললেন কেয়া শেঠ! ফাঁস করলেন ‘মমতার বিউটি সিক্রেট’, এতদিন তিনিই ছিলেন দায়িত্বে?

ভিডিওবার্তার শেষ অংশে টলিউডের পুরনো ‘ব্যান’ সংস্কৃতি এবং শিল্পীদের উপর চাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অপরাজিতা। তাঁর দাবি, অনেক সময় প্রতিবাদ করলেও তা সামনে আসে না, কারণ নানা স্তরের চাপ কাজ করে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বুম্বাদা শিক্ষিত, বিচক্ষণ। তিনি জানতেন, ওই সময়ে ‘ব্যান’ সংস্কৃতি বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাই তিনি পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।” পাশাপাশি দেবের প্রসঙ্গ তুলে অভিনেত্রী জানান, “‘দেশু ৭’ ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়েছে দেব। তার আগে আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আমি অনির্বাণকে নিয়ে ছবি বানাব। তোমরা ছবিতে কাজ করবে তো?’” তিনি জানান, সেই সময় অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করতে তিনি এককথায় রাজি হয়েছিলেন। তাই তাঁর প্রশ্ন, “আমার এই পদক্ষেপ টলিউডে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা অন্যায় ‘সিস্টেম’-এর প্রতিবাদ নয়?” সমাজমাধ্যমে চলতে থাকা ব্যক্তিগত আক্রমণে ক্লান্ত বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “এই সব সহ্য করতে করতে ক্লান্ত। আর পারছি না।” পাশাপাশি তিনি এই বিষয়ে প্রয়োজন হলে অভিযোগ জানানোর কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

You cannot copy content of this page