ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল অভিনেতা ‘মিঠুন চক্রবর্তী’কে (Mithun Chakraborty) আজ সবাই ‘মহাগুরু’ নামেই চেনে। তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং কঠিন বাস্তবতার গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা অধ্যায়ের কিছু কথা তুলে ধরেছেন তাঁর ছেলে মিমো চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার জীবনের নানান অভিজ্ঞতার কথা শুনে বড় হয়েছেন। সেই গল্পগুলো তাঁকে আজও অনুপ্রাণিত করে। মিঠুনের জীবনের প্রতিটি ধাপই ছিল লড়াইয়ে ভরা। আর সেই কারণেই তাঁর সাফল্যের গল্প আজও বহু মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
মিমোর কথায়, অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে যখন মিঠুন চক্রবর্তী মুম্বইয়ে পা রাখেন, তখন তাঁর হাতে ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ কিংবা কোনও শক্তিশালী পরিচিতি। নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে তাঁকে বহু কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অনেক রাত তাঁকে ফুটপাথ কিংবা পার্কে কাটাতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, সেখানে আশ্রয় নেওয়ার পর পুলিশ এসে তাঁকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছে। তবুও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে যাননি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন যে একদিন তাঁর পরিশ্রমের মূল্য মিলবেই।
সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা হল, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও তাঁর আর্থিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। মিমো এই প্রসঙ্গে বলেন, “বাবা বলতেন, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর এক সাংবাদিক তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। তখন বাবা নাকি বলেছিলেন, ‘সাক্ষাৎকার দেব, তবে আগে আমাকে খেতে দাও। অনেকক্ষণ কিছু খাইনি।'”এই ঘটনাটি মিঠুনের জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি পাওয়ার পরও জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটানো যে কতটা কঠিন ছিল, সেই অভিজ্ঞতা আজও অনেককে বিস্মিত করে।
অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে মিঠুন কোনও সুযোগই হাতছাড়া করেননি। অর্থের অভাবে জিমের সদস্য হতে না পারলেও তিনি নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছিলেন। জানা যায়, ভোরবেলা জিমে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার বিনিময়ে তিনি সেখানে অনুশীলনের সুযোগ পেতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সুযোগ যখনই আসুক, নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই কারণেই প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: উঠতি মডেলের সঙ্গে বিশেষ রাত, জন্মদিনেও পাশে নেই নায়িকা স্ত্রী! একসময় প্রেমের প্রদর্শনী, এখন দূরত্বের দেয়াল! নায়কের জীবনে নতুন অধ্যায়, বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন এবার? ছোটপর্দার এই চর্চিত জুটিকে চিনতে পারছেন?
বাবার এই সংগ্রামের গল্প প্রসঙ্গে মিমো বলেন, “বাবার গল্প শুনলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয়। এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনও হার মানেননি। তাই জীবনে যখন সমালোচনা, ব্যর্থতা বা ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হই, তখন বাবার কথাই মনে পড়ে। মনে হয়, যিনি এত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে জিততে পেরেছেন, তাঁর ছেলে হয়ে আমি কেন হাল ছাড়ব?” অন্যদিকে মিঠুন চক্রবর্তীও বহুবার বলেছেন, “আমি কিংবদন্তি হয়েছি শুধু হিট ছবি দেওয়ার জন্য নয়, জীবনের সমস্ত কষ্টকে অতিক্রম করতে পেরেছি বলেই।” মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবির মাধ্যমে জাতীয় পুরস্কার জয় থেকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠার পথচলা আজও প্রমাণ করে, সাফল্যের পেছনে থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং হার না মানার মানসিকতা।






